1. tohidulstar@gmail.com : sobuj ali : sobuj ali
  2. ronju@chapaidarpon.com : Md Ronju : Md Ronju
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশের প্রথম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ॥ মাছ চাষ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন - দৈনিক চাঁপাই দর্পণ
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ১১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন ॥ চলছে গণণা ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ইব্রাহিম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস ॥ ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা ভূমধ্যসাগরে ভাসমান ৩৫ অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশিকে উদ্ধার রহনপুরে মরহুম সেরাজুল ইসলাম টাইগারের স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল SMS Service প্রদানে রাকাব ও বাংলালিংক এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর রাজশাহীর দুর্গাপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ॥ আহত ৯ বাগাতিপাড়ায় ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা ॥ আটক-২ দ্বিতীয় ধাপে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ভোট মঙ্গলবার ॥ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশের প্রথম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ॥ মাছ চাষ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ জুন, ২০২৩
  • ৩৬৩ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশের প্রথম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ॥ মাছ চাষ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিসিক এলাকায় পাশাপাশি থাকা দুইটি পুকুরের উপরে সারি সারি সাজানো সোলার প্যানেল। পুকুরের পানি থেকে একটু উপরে বিশেষ পদ্ধতিতে বাতাস ও ঢেউ সামলাতে সক্ষম ফ্লোটারের উপরে ভাসছে প্রায় ১৫০০ সোলার প্যানেল। আর এর নিচেই রয়েছে বিভিন্ন জাতের মাছ। পুরো পুকুরের প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে প্যানেলগুলো। আর প্যানেলগুলো পরিষ্কার করার জন্য প্রতিটি সারি সারি প্যানেলের পাশ দিয়ে রাখা হয়েছে পানি সরবরাহ লাইন। কোন কারনে প্যানেলে ধুলোর আবরন পড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ধুলোর আবরন ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে। এভাবেই পুকুর পানির উপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানির নিচে মাছ চাষ করা হচ্ছে একই সাথে। দেশের একমাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জেই একটি বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে চালু হয়েছে পুকুরের পানিতে প্রথম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি জুলস পাওয়ার লিমিটেড। বাস্তবায়নকারী সংস্থাটি জানায়, সদর উপজেলার আতাহার-বুলনপুরের বিসিক শিল্প এলাকায় নবাব অটো রাইস মিলের আওতায় নবাব মৎস্য খামার প্রকল্পের ২ টি পুকুরে স্থাপন করা হয়েছে এই ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। যার মাধ্যমে ঐ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

তারা আরও জানায়, গত সোমবার (২৯ মে) বিকেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২.৩ মেগাওয়াট হলেও প্রাথমিকভাবে পিক আওয়ারে (সূর্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকাকালীন ৪ ঘন্টা) গত তিন দিনে ঘন্টাপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে ও কোনপ্রকার জমির ব্যবহার না করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। অন্যদিকে, সোলার প্যানেল পানির উপরে ভাসমান অবস্থায় থাকায় টেকসই হয় বেশিদিন।
প্রকল্প এলাকার কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে এক বছর এই ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষনে রাখা হবে। পরে মাছ চাষের কোন ক্ষতি না হলে ব্যাপকহারে বাড়ানো হবে এমন প্রকল্প। পুকুরের অর্ধেক জায়গায় সোলার প্যানেল থাকায় ও সোলার প্যানেল সরানোর সুযোগ থাকায় মাছের পরিচর্যায় নেই কোন সমস্যা।

জুলস পাওয়ার লিমিটেডের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মো. নাহিদুজ্জামান বলেন, ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ৬ একর আয়তনের একটি জলাশয়ের ৫০ শতাংশ জমি ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে যেহেতু মাছ চাষ হচ্ছে, তাই ফুডগ্রেড প্লাস্টিকের ফ্লোটার ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে মাছের ক্ষতি না হয়। এর লাইফ টাইম হচ্ছে প্রায় ২৫ বছর। ঝড় কিংবা টর্নেডোর কথা বিবেচনায় অ্যাংকরিং সিস্টেমও রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে কাজ করছি। সাধারনত ছাদে বা খোলা জায়গায় আমরা এতদিন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করলেও এই প্রথম ঢাকার বাইরে এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রথম স্থাপন করলাম। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে পরিবেশবান্ধব ও ব্যয় সাপেক্ষ হলেও জায়গা বাঁচাতে এবং ভাসমান এই প্রকল্পটি কায়করী হলে আগামীতে আরও ব্যাপকভাবে এর বিস্তার ঘটাতে চাই আমরা। প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন নদী বা পুকুরগুলোতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
নাহিদুজ্জামান বলেন, নবাব অটো রাইস মিলে দৈনিক ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। দিনের বেলা সোলার বিদ্যুৎ থেকে চাহিদার প্রায় পুরোটাই সরবরাহ দেওয়া যাবে। আর কারখানায় কোনো কারণে লোড না থাকলে বিদ্যুৎ চলে যাবে জাতীয় গ্রিডে। যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পুরণে ভূমিকা রাখবে।

তার দাবী জাতীয় গ্রিড থেকেও উর্ধ্বতন কর্মকতারা সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং তারা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন।
নবাব গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন জানান, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আমরা ৮ টাকা ১০ পয়সায় কিনতে পাওয়ায় মিল মালিকের একদিকে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে প্রতি ইউনিটে আড়াই টাকা করে অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লোডশেডিং মুক্ত থাকায় তারে উৎপাদন কার্যক্রমে গতিশীলতা এসেছে।তাছাড়া বিদ্যুৎ এর দাম কম হলে উৎপাদন খরচও কিছুটা কমতে পারে। সেক্ষেত্রে ভোক্তারা এর সুফল পেতে পারে।
নবাব গ্রুপের চীফ অপারেটিং অফিসার নাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মাছ চাষ। সেই পুকুরে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করেছি। ইতোমধ্যে গত ৩ দিন ধরে আমাদের পুকুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ভালো ফলাফল আসলে এটা বাংলাদেশের অন্যান্য মৎস্য খামারের জন্য একটা লাভজনক প্রকল্প হিসাবে জনপ্রিয় হবে।
প্যানেলে মাছ চাষে কোন অসুবিধা হচ্ছে না জানিয়ে নাহিদ হোসেন আরও বলেন, আমরা এখানে আগে থেকেই রুই, কাতলার মতো দেশি মাছ চাষ করছি। আমরা কয়েকবার মাছও ধরেছি। পানির অংশে যেহেতু কোনো স্থাপনা নেই তাই মাছ ধরতেও কোনো সমস্যা হয়নি। আবার চাইলে সৌর প্যানেলগুলো সরিয়ে স্থান পরিবর্তনও করা যায়।
প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ খরচ বাবদ কতটা সাশ্রয়ী হবে জানতে তিনি বলেন, পিক আওয়ারে আমাদের সর্বোচ্চ আড়াই মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কারখানার জন্য মাসে গড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রকল্প সফল হলে খরচের ৭০ শতাংশ সাশ্রয় হবে বলে আশা করছি।

জুলস পাওয়ার লিমিটেডের সহকরী ব্যবস্থাপক হাসানুল জামি বলেন, প্রকল্পটি দেখভাল ও পর্যবেক্ষণের জন্য এখানে সর্বদায় আমাদের লোকজন থাকে। পুকুরে প্রায় ১৫০০ সৌর প্যানেল রয়েছে। এছাড়াও নবাব অটো রাইস মিলের ছাদের উপর রয়েছে আরও ২২০০ সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। পুকুরের উপরে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করতে গত ৪ মাস কাজ শেষে ২৯ মে থেকে এর উৎপাদন শুরু হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেসকো লিমিটেড এর বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌসলী মো: আলিউল আজিম বলেন, বিসিক শিল্প নগরী বুলনপুরে দেশের একমাত্র ভাসমান ও রুফটপ সোলার সেষ্টেমে অনগ্রিড সিষ্টেমের মাধ্যমে নেট মিটারিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। যার উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ তাদের গ্রীডে যুক্ত হবে। এতে করে দেশের চলমান সংকটে একদিকে বিদ্যুতের ঘাটতি পুরণে যেমন সহায়ক হবে। অন্যদিকে, পুকুরগুলোতে মাছচাষও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বুলনপুরে নির্মিত প্রথম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৩০ মে) এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি সেখানে বলেন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বুলনপুরে নির্মিত দেশের সর্বপ্রথম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটির মাধ্যমে একই জলাশয় থেকে মাছ এবং বিদ্যুৎ মিলবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক মাস জলাশয়টিতে মাছের বৃদ্ধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া পরিবেশগত ভারসাম্য অটুট থাকলে পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জলাধারে আরও বড় পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১২ বছর জুলস পাওয়ার লিমিটেডকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবে নবাব অটো রাইস মিল। এরপরের ১৫ বছর সম্পূর্ণ ফ্রিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবে বহুজাতিক ঐ প্রতিষ্ঠানটি। যার আনুষ্ঠানিকভাবে শীগ্রই উদ্বোধন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
Copyright All rights reserved © 2024 Chapaidarpon.com
Theme Customized BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!