1. tohidulstar@gmail.com : sobuj ali : sobuj ali
  2. ronju@chapaidarpon.com : Md Ronju : Md Ronju
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন - দৈনিক চাঁপাই দর্পণ
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁপাই-সোনামসজিদ মহাসড়ক প্রয়োজন চারলেন ॥ অপ্রশস্ত সড়কে ভোগান্তি ॥ প্রশস্তকরণের সিদ্ধান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গম চর থেকে ৩ কেজি হেরোইনসহ তিনজন আটক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে ১০টি টেলিভিশন প্রদান চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অর্থ ও ঈদ উপহার পেলেন ৮৪৯ জন দুদু-এমপির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক ॥ টাকা চেয়ে খুদে বার্তা-জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় জয়পুরহাটে মাত্র ১০ টাকায় ঈদের বাজার জেম হত্যা মামলার চার্জশিট দিতে সাংসদ আব্দুল ওদুদ’র কড়া হুশিয়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় টিসিবির পণ্য বিক্রয় উদ্বোধন ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ জয়পুরহাটে ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার পূণর্ভবা স্কাউট গ্রুপের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪
  • ৮৫ বার পঠিত

একাধিক ভূক্তভোগীর বিচার দাবী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলার বালুগ্রাম চাঁইপাড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা ফেরদৌস উল আলম কে হত্যা চেষ্টা ও হয়রানীর প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। একই এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মুরগির ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৪৮) ও তার ছেলে ফারুকের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে ভূক্তভোগী ফেরদৌস উল আলম। সংবাদ সম্মেলনে একই এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরের অত্যাচারে অন্যত্র চলে যাওয়া (চাঁইপাড়া থেকে বর্তমানে পিলাশন এলাকায় বাস) বাবুল হোসেন ও বাবুল হোসেনের স্ত্রী নির্যাতিতা রেবিনা বেগম এবং আরেক নির্যাতনের শিকার জাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও তাদের উপর অত্যাচারের বিবরন তুলে ধরে তাদের উপর শারিরিক নির্যাতন-অত্যাচার ও হয়রানীর বিচার চেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী ফেরদৌস উল আলম লিখিত বক্তব্যে জানান, আমি একজন ক্ষুদ্র তরুন উদ্দোক্তা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছি প্রাকৃতিক খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের উদ্দেশ্যে। বিধায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত উদ্দোক্তা সম্মেলনে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাই। কিছু লোক এসব দেখে হিংসার বশবর্তী হয়ে আমার বহু মানুষের সাথে সুপরিচিতি, সুসম্পর্ক ও ব্যবসায়িক পরিধি বিস্তারের চলমান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো ইস্যু খুঁজে পায়নি। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, গত ১৫ই মার্চ শুক্রবার গোমস্তাপুর থানার অন্তর্গত গোমস্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের চাঁইপাড়া গ্রামে আমার বাড়ির পাশের জামে মসজিদে আসর নামাজ শেষে সবাই সাউন্ড সিস্টেম চালুর প্রস্তাব দেয়। আমিও একমত পোষণ করি। সাথে সাথে একই গ্রামের (নাপিত থেকে পোল্ট্রি মুরগী ব্যবসায়ী) পোল্ট্রি মুরগী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম আমাকে ধমক দিয়ে বলে, ‘তুই কেন কথা বললি? তৎক্ষনাৎ ইমাম সাহেব সাউন্ড সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এর ঘন্টা খানেক পরে আমি মসজিদের পাশেই আমার দোকানে কাজ করছিলাম। হঠাৎই জাহাঙ্গীর আলম হাতে একটা ইট তুলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং আমার দরজার সামনে এসে আমাকে মারার হুমকি দিতে থাকে আর দোকান থেকে বের হতে বলে। আমি ভয়ে অনেক্ষণ দোকানের মধ্যেই চুপ থাকি। জাহাঙ্গীর আলমের গালিগালাজ শুনে আমার বাবা এগিয়ে আসলে, আমার বাবাকে ইট মারতে তেড়ে যায়। লোকজন তাকে আটকাতে চেষ্টা করে। তারপর তার ছেলে ওমর ফারুককে মোবাইল করে আমাদের মারার জন্য ডাকে। ফারুক এসেই আমাকে চেপে ধরে আর জাহাঙ্গীর আমার বাবাকে ফেলে দিয়ে বুকের উপরে উঠে বসে। তারপর উপস্থিত লোকজন ধরাধরি করে সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এই ঘটনার পরদিন শনিবার (১৬মার্চ) ইফতারের পরে আমি গ্রামের স্টলে চা খেয়ে ফোন টিপতে টিপতে সেখান থেকে প্রায় ১৫০ গজ পশ্চিমে সুবাস কর্মকারের বাসার দিকে চলে যায়।

পশ্চিম দিকে সম্পূর্ণ ফাঁকা মাঠ। প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ফারুক এবং তার সহযোগী আনারুল হকের ছেলে আমির এসেই আমাকে অতর্কিত আক্রমণ করে। আমার বাম হাতে মোবাইল থাকায় আমি আত্মরক্ষার জন্য অপ্রস্তুত ছিলাম। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই আমির আমার গলায় ইলেকট্রিক তার পেঁচিয়ে ফেলে দেয় এবং ফারুক আমার বাম পায়ের হাঁটুতে, কোমরে এবং মাথায় শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আমি কোনোমতে তার ছুটাতে সক্ষম হই। কিন্তু ফারুক আমার মুখ এবং গলা চিপে ধরে আর আমির মাথায় এলোপাথাড়ি কিল ঘুসি মারতে থাকে। সে সময় ফারুক বলছিল, তোকে বাঁচিয়ে রাখবো না। আমার মুখ এবং গলা চেপে ধরায় আমি কোনো শব্দ করতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণ পর মো: আলাউদ্দিনের ছেলে রাসেলের কন্ঠে শুনলাম, ‘এই ফারুক ছেড়ে দে, মরে যাবে ছেড়ে দে। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই। পরবর্তীতে শুনেছি, আমার গোঙ্গানির আওয়াজ শুনে রাসেল এবং তার মা এসে আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। তাদের আওয়াজ শুনে মসিদুল হকসহ অনেকেই এসে তাদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করে। ঘটনার পর ফারুক এবং আমির জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতেই আশ্রয় নেয়। প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসক হজরত আলী ডাক্তার আমাকে চিকিৎসা করে। তারপর এলাকাবাসী আমাকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে তিনদিন চিকিৎসার পর আমাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। আমার বাবা দ্বিতীয় ঘটনার দিন এব্যাপারে থানায় অভিযোগ করে। কিন্তু জাহাঙ্গীর আর তার ছেলে ফারুকের অত্যাচারের ভয়ে আমরা থানায় মামলা পর্যন্ত করতে পারিনি। উপরন্তু জাহাঙ্গীর আলম অযথা পুলিশ পাঠিয়ে আমাদের হয়রানি করেছে। আমিসহ আমার পরিবার এখন জীবন সঙ্কায় আছি। এরকম অর্থের দাপটে মানুষকে অত্যাচারের নজির জাহাঙ্গীর আলমের আরও অনেক রয়েছে। কেউ ভয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। পরিশেষে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সহায়তা কামনা করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন কারী ও আমরা পারস্পরিক আত্মীয় তবে বিষয়টি যতটুকু বলছে ততোটুক না। এলাকার হাজারো জনগণ স্বাক্ষী দিবে যে ফেরদৌস উল আলম মিথ্যাচার করছে। তারা যদি মনে করে আইনি লড়াইয়ে যাবে কিংবা স্থানীয় ভাবে সমাধান করবে উনারা যেটা ভালো মনে করবে, আমিও সে ভাবে সমাধান করতে রাজি আছি। জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, ফেরদৌস উল আলমের পিতার দায়ের করা থানার অভিযোগের বিষয়ে সমাধান করে দেওয়ার জন্য গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন রেজা আজ সকাল ৯ টায় সময় দিয়েছিলেন কিন্তু তারা হাজির হয় নি।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকায় অনেক ঘটনার অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম আগে নাপিতি কাজ করতো। এক সময় সে মুরগীর ফার্ম করে। কোন অজ্ঞাতভাবে রাতারাতি অনেক টাকার মালিক হয়ে যায়। অর্থের দম্ভে জাহাঙ্গীর আলম এলাকার মানুষকে মানুষই মনে করে না। সে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। এলাকায় প্রায় ৮ থেকে ১০টি ঘটনা ঘটালেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় সে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ধরাকে সরা জ্ঞান করে একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে। এছাড়া তার ভয়ে এলাকার লোকজন তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না। তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নেমে আসে নির্যাতন আর হয়রানী। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, “এই জাহাঙ্গীরের ক্ষমতার দাপট কোথায় পাই? কি কারণে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সকলকে টাকার গরম দেখায়? টাকা দিয়ে নাকি সকলকে কিনে রেখেছে? তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নেয়ার মত নেই?”। এসব কথা বলেই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর আতংকে থাকে এলাকার সাধারন মানুষ। সন্ত্রাসী কাজের সাথে জড়িত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন সংশ্লিষ্টরা এমনটায় আশা করছেন ভূক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
Copyright All rights reserved © 2024 Chapaidarpon.com
Theme Customized BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!