মোহনগঞ্জের লিজার সাথে ফেসবুকে প্রেম-ইসলাম গ্রহণ করে চীনা যুবকের বিয়ে
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের মেয়ে নাজমিন আক্তার লিজা। তার সাথে চীনা এক যুবকের প্রেম হয় ফেসবুকে। আর সেই প্রেমের টানেই হাজার মাইল দূরের চীন থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ছুটে এলেন ওই তরুণ। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখলেন ‘মো. নুর উদ্দিন’। এরপর মুসলিম রীতিতে বিয়ে করলেন ভালোবাসার মানুষ নাজমিন আক্তার লিজাকে। ব্যতিক্রমী বিয়েকে ঘিরে মোহনগঞ্জে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রেমের পরিণতিতে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের তরুণী নাজমিন আক্তার লিজা (২০)-কে বিয়ে করেছেন চীনের নাগরিক ওয়্যাং সুলিন (৩০)। বিয়ের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখেন মো. নুর উদ্দিন। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুসলিম রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই নবদম্পতি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। বিদেশি বরকে একনজর দেখতে এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে সকাল থেকেই কনের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কনে নাজমিন আক্তার লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. নাজিম উদ্দিনের মেয়ে। যদিও তাঁদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করছে। অন্যদিকে, বর ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। ভাইকে সঙ্গে নিয়ে নিজ দেশে রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন। জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে লিজা ও ওয়্যাং সুলিনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি দুই পরিবারের কাছে জানানো হলে উভয় পরিবার সম্মতি দেয়। অবশেষে প্রেমের টানে গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান লিজার পরিবারের সদস্যরা। সেখান থেকে তাঁকে মোহনগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে ২১ জুলাই ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘মো. নুর উদ্দিন’ নাম ধারণ করেন। একই দিন আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট সম্পন্ন করে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধন করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে হয় গায়ে হলুদের আয়োজন। শুক্রবার ছিল বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন প্রতারণার ঘটনা আলোচনায় আসায় শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থান নেয় কনের পরিবার। লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, “ছেলের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছি। পাশাপাশি চীনা দূতাবাসে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করেছি। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পরই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে আমার মেয়েকে চীনে নিয়ে যাবে।” মোহনগঞ্জ পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর হেলেনা আক্তার বলেন, বিদেশি বর হওয়ায় মানুষের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। প্রতিবেশী হিসেবে অনুষ্ঠানে এসে খুব ভালো লাগছে। নবদম্পতির জন্য আন্তরিক শুভকামনা রইল। এদিকে চীনা যুবককে ঘিরে দৌলতপুর এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ কনের বাড়িতে এসে নবদম্পতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। অনেকেই স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলছেন।