রাণীনগরে আমনের মাঠে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন কৃষক
দিগন্ত ছুঁয়ে ছড়িয়ে আছে সবুজের চাদর, বাতাসে ঢেউ তুলছে রোপা-আমনের কচি গাছ। বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মাঠে এখন এই দৃশ্যই চোখে পড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং নিয়মিত পরিচর্যার ফলে এবার আমনের ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। প্রকৃতি সহায় থাকলে এবং বড় কোনো দুর্যোগ বা রোগবালাই না হলে ভরা মৌসুমে গোলা ভরার আশা করছেন তাঁরা। সেই আশায় শেষ সময়ের পরিচর্যায় এখন মাঠে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবার আটটি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাস্তবে আবাদ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টরে। বন্যার পানি না নামায় মিরাট, বড়গাছা, গোনা ও রাণীনগর ইউনিয়নের কিছু জমিতে যথাসময়ে চারা লাগানো যায়নি, তাই লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, তবে সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই কৃষকদের। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ২৫৭টি গভীর নলকূপ, ব্যক্তি উদ্যোগের ২০৮টি বিদ্যুৎচালিত নলকূপ ও ৪০টি লো-লিফট পাম্পে জমিতে পানি পৌঁছে যাচ্ছে। এর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ফলনের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বালুভরা গ্রামের একজন কৃষক বলেন প্রতিবছরই আমি আমন চাষ করি। এবার বন্যার কারণে একটু দেরিতে চারা লাগাতে হয়েছে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকায় এখন পর্যন্ত ধানের অবস্থা বেশ ভালো। শেষ পর্যন্ত সব কিছু ঠিক থাকলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার প্রভাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে বলেই আমরা আশা করছি।’ তাঁর ভাষ্য, কৃষকদের সময়মতো চারা রোপণ, সার-কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থাপনা ও রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করেও কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। বন্যার কারণে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও মাঠভরা সবুজ আর অনুকূল আবহাওয়া রাণীনগরের কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রকৃতি মুখ তুলে চাইলে অল্প দিনেই সোনালি ধানে ভরে উঠবে মাঠ, আর কৃষকের মুখে ফুটবে হাসি।