মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনীত ॥ উল্লাসে ভাসছে ঠাকুরগাঁও
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার খবরে তাঁর জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশের শীর্ষ পদের জন্য মনোনীত হওয়ায় আনন্দে ভাসছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। বৃহস্পতিবার বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঠাকুরগাঁও শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শহরের দলীয় কার্যালয় ও কালিবাড়িতে মির্জা ফখরুলের পৈতৃক বাসভবনে ভিড় জমান সর্বস্তরের মানুষ।
আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান সবাই। ছাত্রজীবন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন কলেজ শিক্ষক। পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক সংকটে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে ও এক সুতোয় বেঁধে রাখতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম থেকে শুরু করে একাধিকবার কারাবরণ-প্রতিটি ধাপেই ধৈর্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ঠাকুরগাঁওবাসীর মতে, মির্জা ফখরুলের এই অর্জন পুরো উত্তরবঙ্গের জন্য এক বিরাট গৌরব। ঠাকুরগাঁও বিএমএ সভাপতি ও সাবেক দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডাঃ এবিএম খায়রুল কবীর বলেন, এই সাফল্য কেবল তাঁর একার নয়, ঠাকুরগাঁওসহ পুরো উত্তরবঙ্গের। আমরা নিজেরাই আজ চরম আনন্দে ও গৌরবে শিক্ত হচ্ছি। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। মির্জা ফখরুল ইসলামের আজকের এই অর্জনের পেছনে তাঁর পরিবার ও সহযোদ্ধাদের ত্যাগ চিরস্মরণীয়। তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমীন, চাচা সাবেক স্পিকার মির্জা গোলাম হাফিজ এবং ভগ্নীপতি সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান রাজনীতির অঙ্গনে পরিচিত নাম।
এছাড়া সংকটময় সময়ে পাশে থাকা তাঁর ছোট ভাই জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিসিসিআই পরিচালক মির্জা ফয়সাল আমীন, স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা শাফারুহ তাঁর সংগ্রামী জীবনের শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। মনোনয়নের প্রতিক্রিয়ায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন বলেন, “আমাদের পরিবার অত্যন্ত আপ্লুত। সারাজীবনের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও সততার যোগ্য স্বীকৃতি আজ তিনি পেলেন। দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমরা অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।” জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “আজকের দিনটি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
দুঃসময়ে দলের জন্য তাঁর অবদান মূল্যায়িত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে যে সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করবেন এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর। এদিকে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতিসন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। উচ্ছ্বসিত রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণ একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি অলিগলিতে এখন কেবলই উদযাপনের আবহ। নিজের জেলার সন্তানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দেখার এই প্রতীক্ষা ও উচ্ছ্বাস গোটা ঠাকুরগাঁওবাসীকে একসূত্রে গেঁথেছে।