জাপানে স্কলারশিপ পেয়েছেন ইবিএইউবি শিক্ষার্থী নিহারিকা-বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধনা
জাপানে স্কলারশিপ পেয়েছেন ইবিএইউবি শিক্ষার্থী নিহারিকা-বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধনা
বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি ছেড়ে বিদেশের নামী স্কলারশিপের পেছনে ছুটেছিলেন এক বছর। পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের টিপ্পনী, সেশন জট না থাকলেও ঘরে বসে থাকার গঞ্জনা সবকিছুকে হার মানিয়ে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর শিক্ষার্থী নিহারিকা দাস। জাপানের সম্মানজনক ‘মেক্সট’ স্কলারশিপ নিয়ে উ”চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ায় তাকে বিশেষ সংবর্ধনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বড়ইন্দারা মোড়স্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কৃষি অনুষদের ১৬তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীর সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে নিহারিকা দাস তার দীর্ঘ এক বছরের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিসিএস প্রিপারেশন অর্ধেক শেষ করার পর ড. মেহেদী হাসান খান স্যারের পরামর্শে জাপানের মেক্সট স্কলারশিপের স্বপ্ন দেখা শুরু করি। এরপরের এক বছর আমার জন্য সহজ ছিল না। প্রায় ৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল করে মাত্র ৩টি পজিটিভ রেসপন্স পেয়েছিলাম। অনেক সময় প্রফেসররা মেইলের উত্তর দিতেন না, তখন ভীষণ ভেঙে পড়তাম।” সামাজিক চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানুষ বলত আমি মা-বাবার ‘লস প্রজেক্ট’। মেয়ে হয়ে কেন এক বছর ঘরে বসে আছি, কেন বিয়ে দিচ্ছ না এমন অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল সৃষ্টিকর্তার ওপর এবং শিক্ষকদের নির্দেশনায়। আজ সেই ত্যাগের ফল পেয়েছি।”কোনো কোচিং সেন্টারের সহায়তা ছাড়াই শিক্ষকদের গাইডেন্সে নিহারিকা আইইএলটিএস-এ ভালো স্কোর অর্জন করেন। তিনি বলেন, “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পিছিয়ে থাকার কিছু নেই। আমাদের শিক্ষকরা যেভাবে আমাকে হাতে-কলমে শিখিয়েছেন, ইমেইল রাইটিং থেকে শুরু করে মোটিভেশন লেটার লেখা সবকিছুতেই তাদের অবদান অনস্বীকার্য।”সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সফিকুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি অনুষদের ডিন ড. মো. মাহাবুবুর রহমান। বক্তারা নিহারিকার এই সাফল্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
নিহারিকা দাস জাপানের কাগোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ল্যাবে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। আগামীতে পিএইচডি শেষ করে দেশের কল্যাণে কাজ করার এবং বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।