তেল নাই’ সাইনবোর্ড ॥ ভেতরে সাড়ে ৯ হাজার লিটার জ্বালানী! গোমস্তাপুরে পাম্পে জরিমানা
তেল নাই’ সাইনবোর্ড ॥ ভেতরে সাড়ে ৯ হাজার লিটার জ্বালানী! গোমস্তাপুরে পাম্পে জরিমানা
বাইরে ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড, আর ভেতরে গচ্ছিত হাজার হাজার লিটার জ্বালানি! এমনই চমকপ্রদ চিত্র মিলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদের অভিযোগে ওই পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স ব্রাদার্স এন্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশন’-এ এই অভিযান পরিচালনা করেন গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী।অভিযান সূত্রে জানা যায়, পাম্পটির সামনে ‘পাম্পে তেল নেই’ লেখা স্টিকার টানিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়।

এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল স্টোরেজ পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুদের প্রমাণ পায়।তল্লাশিতে দেখা যায়, পাম্পটিতে মজুদ রয়েছে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন। মোট প্রায় সাড়ে ৯ হাজার লিটার জ্বালানি। অথচ গ্রাহকদের কাছে তেল না থাকার অজুহাতে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল।এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে সহায়তা করেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সী সাংবাদিকদের বলেন, “কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

” তিনি সকল পাম্প মালিককে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি প্রতিটি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে রসিদ প্রদানের নির্দেশ দেন।জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে জ্বালানিরকৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অভিযোগ বাড়ছে। প্রশাসনের এমন অভিযানকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও, অনিয়ম রোধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।