নাচোলের খোরশেদ মোল্লা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন
নাচোলের খোরশেদ মোল্লা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন
নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের খোরশেদ মোল্লা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে।রোববার (২৩ মার্চ) বিকেল থেকে সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত ছিল অনুষ্ঠানের কর্মসূচি। সোমবারের মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্তমান সরকারের ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিদ্যালয় জড়ো হতে থাকে নবীন ও প্রবীণ ছাত্রীরা। সাড়ে নয়টায় আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। সকাল ১০টায় জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে মঞ্চের অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।এরপর থিম সং নৃত্য পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্রীরা।উম্মোচন করা হয় স্মৃতি স্মারক।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম, নাচোল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ড.মুন্সি আবু সাইফ সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (বাংলা বিভাগ), চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। শরিফুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, নাচোল সরকারি কলেজ। সুলতানা রাজিয়া ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ওবায়দুর রহমান অধ্যক্ষ, নাচোল মহিলা ডিগ্রি কলেজ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাচোল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, নাচোল পাইলট উ”চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমান, নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূর কামাল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হুদা, নাচোল সদর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এবং কসবা ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব। অনুষ্ঠানে নাচোলের রত্নগর্ভা মা রওশন আরা বেগমসহ নাচোলে নারী শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ৬৯ জনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।নারী শক্তি বিষয়ক গীতিনাট্য পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্রীরা। স্মৃতি চারণায় বিদ্যালয়ে নিজেদের শৈশবের সোনালী দিনের স্মৃতির ঝাপি খুলে আবেগ আপ্লুত হন বয়স্ক শিক্ষার্থীরা।এদের মধ্যে ঢাকা থেকে আসা ১৯৯১ সালের এসএসসি ব্যাচের ছাত্রী খাদিজাতুল খাতুন ও দিনাজপুর থেকে আসা তাজকেরা বেগমসহ প্রাক্তক শিক্ষার্থীরা জানান, অনুষ্ঠানের জন্যই তাঁরা এসেছেন। অনেক পুরনো বান্ধবীর সঙ্গে দেখা হলো। অনেক কথা অতীত দিনের। শৈশবের দিনে ফিরে গিয়েছিলাম দিনটিকে ঘিরে। বাকী জীবনে দিনটি স্মরনীয় ও উজ্জ্বল হয়ে থাকবে তাদের জীবনে।প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন,প্রায় দেড় হাজার নবীন ও প্রবীন ছাত্রী অনুষ্ঠানে নিবন্ধন করে। তাঁরা আনন্দে মাতোয়ারা হয়।আমরা শিক্ষকরাও তাঁদের সঙ্গে আনন্দে মাতি। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের এই মিলন মেলা স্মরনীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে অত্র প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। ২দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শেষে সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।