রহনপুরে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে মানবতার সৈনিকরা
রহনপুরে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে মানবতার সৈনিকরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে একটু একটু করে গড়ে উঠেছে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’। নামের মতোই এ সংগঠনের লক্ষ্য ও কাজ একটাই ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। সমাজের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে এ সংগঠন এখন রহনপুরের মানুষের কাছে এক উজ্জ্বল আশার নাম। এই মহৎ উদ্যোগের সূচনা করেন স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জেম। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আর মানবতার টান থেকেই তাঁর এই পথচলা। ২০২১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৫-২০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনটির। শুরুটা ছিল ক্ষুদ্র, কিন্তু লক্ষ্য ছিল বিশাল ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। গত পাঁচ বছরে একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি তাদের কাজ। বছরের ৩৬৫ দিনই সন্ধ্যার পর চলে খাবার বিতরণের কার্যক্রম। রহনপুর রেলস্টেশন, স্থানীয় হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগী, পথচারী, মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসহায় মানুষ সবাই এই মানবিক উদ্যোগের পরিধির মধ্যে পড়ে। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের উদ্যোক্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জেম বলেন, “মানুষই মানুষের জন্য। কেউ যেন ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না যায়, এই চিন্তা থেকেই আমাদের এই যাত্রা। আমাদের পাশে যারা আছেন তাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।” ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। দাতাদের তথ্য গোপন রাখা হয়, আর প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা হয় শুধুমাত্র মানবিক কাজে। সংগঠনের হিসাবরক্ষক মোঃ খাইরুল অনাম বলেন, “প্রত্যেকটি টাকার হিসাব আমরা রাখি অত্যন্ত সতর্কভাবে। দাতাদের বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” এ কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিরা। তাদের আন্তরিকতা ও অংশগ্রহণে সংগঠনটির পরিধি দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। স্থানীয় সহযোগী আজম আলী বলেন, “মানবতার সেবায় রহনপুর আমাদের এলাকায় মানবিকতার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এমন কাজে অংশ নিতে পারাটাই আমাদের সৌভাগ্য।” প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ সংগঠনের দেওয়া খাবার পান। কেউ হাসপাতালের বারান্দায় বসে খান, কেউ স্টেশনের ধারে তাদের মুখের হাসিই যেন সংগঠনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। তিনবেলা না হোক, অন্তত একবেলা খাবার পেয়ে তারা খুঁজে পান বেঁচে থাকার আনন্দ ও স্বস্তি। গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মেসবাউল হক মেসবা বলেন, “রহনপুরের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সমাজে এমন মানবিক কার্যক্রম যত বাড়বে, দুর্বল মানুষের জীবন ততই সুন্দর হবে।” ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’ এখন শুধু একটি সংগঠন নয় এটি এক আন্দোলন, এক ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।