শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৭

রহনপুরের আকাশে বাবুই পাখির রঙিন আসর

WP Import ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ০৭:২৪ অপরাহ্ন গোমস্তাপুর
WP Import ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ০৭:২৪ অপরাহ্ন
রহনপুরের আকাশে বাবুই পাখির রঙিন আসর
রহনপুরের আকাশে বাবুই পাখির রঙিন আসর

রহনপুরের আকাশে বাবুই পাখির রঙিন আসর

দিনের আলো ফুরিয়ে আসে, আকাশে নেমে আসে নরম সোনালি ছায়া। ঠিক সেই মুহূর্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলস্টেশন এলাকায় শুরু হয় এক অন্য রকম দৃশ্যপট। চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে এলেও বৈদ্যুতিক তারে, খুঁটির মাথায় আর আশপাশের গাছের ডালে জমে ওঠে অগণিত বাবুই পাখির আসর। সন্ধ্যার নীলাভ আকাশ তখন ভরে ওঠে পাখির কলতান আর ডানার ঝাপটায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়—তারগুলোতে যেন গেঁথে আছে মুক্তোর মালা। এক তার থেকে অন্য তার, গাছ থেকে খুঁটি—সব জায়গা জুড়ে বাবুই পাখিদের ঘন সমাবেশ। তাদের বসে থাকার ভঙ্গি, একসঙ্গে ডানার ঝাপটা আর অবিরাম ডাক যেন প্রকৃতির তৈরি এক সিম্ফনি। মানুষ দাঁড়িয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখে, আর প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৌন্দর্যে ডুবে যায়। স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিনই বিকেল শেষে এভাবেই জড়ো হয় পাখির দল।

দিনের ক্লান্তি শেষে সন্ধ্যার আকাশে তারা নিয়ে আসে নতুন প্রাণ। শিশুরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, প্রবীণরা নীরব বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে, আর পথচারীরা থেমে যায় এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে। অনেকেই তোলে ছবি আবার কেউ বা করেন ভিডিও। বাবুই পাখিরা প্রকৃতির শ্রমিক, তাদের শিল্পকলা মিশে আছে বাসা তৈরির নিপুণতায়। তবে রহনপুরের আকাশে তারা যেন একসঙ্গে মিলেমিশে গড়ে তুলেছে সৌন্দর্যের নতুন কাব্য। বিদ্যুতের তারে বসে থাকা এই হাজারো বাবুই যেন মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি এখনো বেঁচে আছে, কংক্রিটের দেয়াল ভেদ করেও তার সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। রেলস্টেশনের এই সন্ধ্যা দৃশ্য স্থানীয়দের মনে শুধু আনন্দই আনে না, বরং তৈরি করে এক রোমাঞ্চকর আবহ। কে জানে, হয়তো কোনো কবি কিংবা শিল্পীর কাছে এই দৃশ্যই হয়ে উঠতে পারে নতুন সৃষ্টির অনুপ্রেরণা। সন্ধ্যার পর যখন অন্ধকার নেমে আসে, ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যায় কলতান। পাখিরা ডানা মেলে অদৃশ্য হয়, কিন্তু থেকে যায় সেই মুহূর্তের সৌন্দর্য, যা চিরকাল লালন করবে রহনপুরের মানুষ। এইভাবেই প্রতিদিন বিকেল গড়ালে রহনপুরের আকাশে বাবুই পাখির মেলা হয়ে ওঠে প্রকৃতির রঙিন উৎসব—যা শুধু চোখে নয়, হৃদয়ের গভীরেও রেখে যায় এক অনির্বচনীয় আবেগ।