শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৭

শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আহমদ রফিককে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

WP Import ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৬:৫১ অপরাহ্ন ঢাকা
WP Import ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৬:৫১ অপরাহ্ন
শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আহমদ রফিককে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা
শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আহমদ রফিককে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

শনিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আহমদ রফিককে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

ভাষাসৈনিক, প্রখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ আহমদ রফিক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না … রাজেউন)। গুণী এই মনীষী বৃহস্পতিবার (০২ অক্টোবর) রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। তাঁর প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শাহবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আহমদ রফিক। তাঁর পিতা আবদুল হামিদ এবং মাতা রহিমা খাতুন। স্ত্রী ডা. এস কে রুহুল হাসিন। শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে রেখে গেছেন অমর অবদান। তিনি পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা। দুই বাংলার রবীন্দ্রচর্চায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে প্রদান করে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে আগামী শনিবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে।
বেশ কিছু দিন থেকে অসুস্থ আহমদ রফিক সোমবার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল থেকে তাকে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্রনিক কিডনি ফেইলিওর, আলঝেইমার্স রোগ, পারকিনসন্স রোগ, ইলেকট্রোলাইটস ইমব্যালেন্স, বেডশোর, ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন আহমদ রফিক।
আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল সাদী সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সকাল ১১টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আহমদ রফিকের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আহমদ রফিক দেহ দান করেছেন। ফলে তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালকে দেওয়া হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থীর ইচ্ছা অনুযায়ী তার দেহ চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণায় দেওয়া হবে। যে কারণে তার দাফন হবে না।
এর আগে এক মাসে দুই দফা ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আহমদ রফিক। তিনি রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার স্ত্রী মারা যান ২০০৬ সালে। এ দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আহমদ রফিকের জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর গ্রামে। মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর রসায়নে পড়তে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু ফজলুল হক হলের আবাসিক সুবিধা না পাওয়ায় পরে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে।
১৯৫২ সালে তৃতীয়বর্ষে পড়ার সময় ফজলুল হক হল, ঢাকা হল এবং মিটফোর্ডের ছাত্রদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলার কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সভা-সমাবেশ মিছিলে ছিলেন নিয়মিত। ১৯৫৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আন্দোলনকারী ছাত্রদের মাঝে একমাত্র তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
১৯৫৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসে পড়াশোনায় ফেরেন আহমদ রফিক। এমবিবিএস ডিগ্রি নিলেও চিকিৎসকের পেশায় যাননি। ১৯৫৮ সালেই আহমেদ রফিকের প্রথম প্রবন্ধের বই ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’ প্রকাশ হয়। তারপর লেখালেখিতেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, রবীন্দ্রত্ত্বাচার্য উপাধিসহ অনেক সম্মাননা।