মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ॥ ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতী সন্তান ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই ঘোষণার পরপরই আনন্দে ভেসেছে তার জন্মভূমি ঠাকুরগাঁও জেলা। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বৃহস্পতিবার জেলা জুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। প্রিয় নেতার এই ঐতিহাসিক অর্জনে তারা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও উল্লাস করতে দেখা যায় দলীয় সমর্থকদের। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় পুরো ঠাকুরগাঁওবাসী আজ গর্বিত ও আনন্দিত। এটি শুধু দলের জন্যই নয়, বরং জেলার প্রতিটি মানুষের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ তাদের প্রিয় নেতার উত্তরোত্তর সাফল্য, দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। মিষ্টি বিতরণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ প্রিয় নেতার দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার মুহূর্তটিকে অবিস্মরণীয় করে রাখেন।
শৈশবে হাফ প্যান্ট পরে স্কুলে যাওয়ার দিনগুলো থেকেই তাঁর সূচনা। সহপাঠীদের কাছে তিনি ছিলেন কেবলই ‘মির্জা আলমগীর’। সেই শৈশব-কৈশোর পার করে যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা ও পরবর্তীতে অর্থনীতির অধ্যাপনা শেষে রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ-রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন হতে যাচ্ছেন। তাঁর এই অর্জনে আনন্দের জোয়ার বইছে উত্তরপদের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। শৈশবের সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছে এটি যেন এক পরম তৃপ্তি ও গর্বের ক্ষণ। মির্জা ফখরুলের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিকথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই ফখরুলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সবাইকে আকৃষ্ট করত। কেবল বন্ধু কিংবা সহপাঠীই নয়, ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকেরাও তাঁর অনন্য গুণাবলির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। অধ্যাপক মনতোষ বলেন, “আমরা যারা কলেজে অধ্যাপনা করতাম, এলাকার সবাই আমাদের ‘স্যার’ বলে ডাকত। মির্জা ফখরুলকেও ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘স্যার’ সম্বোধন করতেন। তবে আমরা বন্ধুরা তাঁকে নাম ধরেই ডাকতাম। খেলাধুলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তিনি পুরো শহরে এক ধরনের প্রাণচঞ্চলতা তৈরি করতেন। আজ সেই প্রাণচঞ্চলতা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে।” “রাজনীতিতে তাঁর সংগ্রাম, প্রজ্ঞা ও ত্যাগের দৃশ্য আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পেরেছে-এর পেছনে মির্জা ফখরুলের অবদান অতুলনীয়। তাঁর এই চরিত্রমাধুর্য, পরিচ্ছন্ন রুচিশীলতা ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব তাঁকে বিরল উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ তিনি রাষ্ট্রপতির মর্যাদাপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত করতে যাচ্ছেন দেখে বন্ধু হিসেবে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।” বঙ্গভবনের অভিভাবক হিসেবে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক মর্যাদা রক্ষা করবেন এবং নিজ জনপদের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন, এমনটাই মনে করছেন তাঁর শৈশবের স্বজন ও ঠাকুরগাঁওবাসী।