বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৭

পদ্মার ভাঙনে বিলীন বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলী জমি ॥ পানিবন্দি ১২’শ পরিবার

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২৩ অপরাহ্ন রাজশাহী
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২৩ অপরাহ্ন
পদ্মার ভাঙনে বিলীন বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলী জমি ॥ পানিবন্দি ১২’শ পরিবার

রাজশাহীর পদ্মা নদীর ভাঙনে চকরাজাপুর ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে চলে গেছে বাড়ি-ঘর, ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনাও। ফলে অনেকটায় দিশেহারা এলাকার অসহায় পরিবারগুলো। নদী গর্ভে বিলীন হওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনের আশঙ্কায় আগে থেকেই বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমানে পাঠদান বন্ধ ছিলো। এদিকে, পদ্মায় পানি বাড়ায় চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়াসহ ১৫টি চরের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মায় হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। এরপর নদীভাঙনও তীব্র হয়। এতে শতাধিক বাড়ি ও কয়েকটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলার মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। চকরাজাপুর ইউপির সাবেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ভাঙনে প্রায় ১০০টি বাড়ি, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মসজিদ নদীগর্ভে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। চরের বাসিন্দারা জানান, পানি বাড়তে থাকায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা। একই সঙ্গে ১৫টি চরের বাসিন্দারা নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন। বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, নদীভাঙন ও বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি পরিদর্শন করা হয়েছে। আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় ভূক্তভাগী পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন তাঁরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আল আওয়াল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শাহীনুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহবুব হোসেন এবং নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নাজির হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবন্দি হওয়া, যাতায়াত, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রশাসন বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে বলেও তাঁরা জানান।