শুক্রবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৭

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট ॥ গাছতলায় চিকিৎসা

বিশেষ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:১৬ অপরাহ্ন সারাদেশ
বিশেষ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:১৬ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট ॥ গাছতলায় চিকিৎসা

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ৪৫ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ২০৪ জন শিশু। ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই না থাকায় এবং মেঝেতেও জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের সামনের গাছতলায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন অসহায় অভিভাবকেরা। সরেজমিন হাসপাতালে এই চরম দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। প্রচণ্ড গরম, সুপেয় পানির সংকট, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন রোগীর স্বজনেরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শিশুদের অধিকাংশই শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে শিশু ওয়ার্ডে এক অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চগড়ের বিউটি বেগম জানান, ওয়ার্ডের ভেতরে প্রচণ্ড গরম ও গুমোট পরিবেশ। একটি বিছানায় দুই থেকে তিন শিশুকে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। গরমে ও কান্নাকাটিতে শিশুরা ভেতরে থাকতে না চাওয়ায় বাধ্য হয়ে নাতিকে বাইরে খোলা বাতাসে রাখতে হচ্ছে। কেবল স্যালাইন বা ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাকে ভেতরে নেওয়া হয়। পঞ্চগড়ের বেশ কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে সরকারিভাবে কোনো ওষুধ বা চিকিৎসাসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে না। ক্যানুলা, সিরিঞ্জ, স্যালাইন সেট থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপত্রের সব ওষুধ চড়া দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। অর্নিতা আক্তার জানান, গত চার-পাঁচ দিনে তাঁর কেবল ওষুধ কিনতেই ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। রোগীদের ভাষ্যমতে, পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকায় নারী-পুরুষকে একই শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার একটি শৌচাগার ময়লা জমে বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে অনেককেই হোটেল বা দূরদূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, ‘৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রায়ই ২৫০ জনের মতো শিশু ভর্তি থাকে। এর সঙ্গে শিশুদের অভিভাবকেরাও থাকায় ওয়ার্ডে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়।’ চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।