প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিচারের দাবীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভূক্তভোগীদের মানববন্ধন
ইতালির ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে এলাকার প্রায় ১৩ জন যুবকের কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবার। রবিবার সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া ব্রীজ চত্বরে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন হয়। সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম ভ্যালাপাড়ার স্থানীয় মোঃ রবু মেম্বারের ছেলে ইতালী প্রবাসী মোহাম্মদ আলী কালু ও তার ভাই পালুর বিরুদ্ধে ইতালী পাঠানোর কথা বলে এলাকার বেশকিছু যুবকের কাছ থেকে ২০২২-২০২৩ সালে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তোলা হয়। টাকা নেয়ার পর থেকেই নানা টালবাহানা শুরু করে। অবশেষে কয়েকজনকে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে আবারও প্রতারণা করে। প্রতারণা ধরা পড়লে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সকলকে। কিন্তু বর্তমানে টাকা না দিয়ে ফোন রিসিভও করেন না প্রতারকরা এবং নানা প্রতারনামূলক কথা বলছেন বলে মানববন্ধনে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
মানববন্ধনে বক্তারা এই প্রতারকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে টাকা ফেরতসহ প্রতারণার সঠিক বিচার দাবী করেন। মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, চামাগ্রাম এলাকার আওলাদ হোসেন সবুজ, আব্দুল মমিন, লাহারপুরের আশিফ মাহমুদ, মহারাজপুরের আব্দুস সালাম, শিবগঞ্জ জালমাছমারির মোঃ নূর ইসলামসহ অনেকে। মানববন্ধন শেষে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপাররের কাছে বরাবর স্মারকলীপি প্রদান করেন ভূক্তভোগী পরিবারগুলো। ইতালিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার।৩১/০৫/২০২৬ ইং রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর উত্তর পারে সকাল ১০:৩০ মিনিট মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, ভুয়া ‘নুলস্তা’ (ইটালিয়ান কাগজপত্র) দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এলাকার অনেক পরিবারতে পথে বসিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৪নং বারঘরিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চামাগ্রাম এলাকার মো: রবু মেম্বারের দুই ছেলে মোহাম্মদ আলী কালু এবং তার ভাই পালু। এলাকার নিরীহ ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশী যুবকদের টার্গেট করে। তারা ইতালিতে উচ্চ বেতনে নিশ্চিত চাকরির প্রলোভন দেখায়। পরবর্তীতে ইতালির ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট বা ‘নুলস্তা’ (Nulla Osta) দেখিয়ে ভিসা ও চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কাউকে ইতালিতে পাঠানো হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। জমিজমা ও সম্বল বিক্রি করে টাকা দেওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন চরম আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভূক্তভোগীরা আরও বলেন, আমরা ধার-দেনা করে, জমি বিক্রি করে ইতালির আশায় টাকা দিয়েছিলাম।
এখন আমাদের টাকাও নেই, বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নও শেষ। আমরা এর বিচার চাই এবং আমাদের রক্ত কস্টের টাকা ফেরত চাই। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবী, প্রতারক চক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ আলী কালু ও পালুর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিকট ফেরত দেওয়া হয়। এছাড়া, ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ মানুষ যেন এমন আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন নিঃস্ব পরিবারের সদস্যরা।