চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
মাদকের ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষায় প্রশাসনের বিভিন্নস্তর থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ডিএনসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছেন। এরই অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘নিউ প্রত্যাশা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে রোগীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তাদের নতুন জীবনের প্রেরণা জোগান। এ ময় তাঁর সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এবং নিরাময় কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রটির সার্বিক পরিবেশ, চিকিৎসা কার্যক্রম, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং রোগীদের সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থা, চিকিৎসা গ্রহণের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। পরে নিরাময় কেন্দ্রে আয়োজিত এক মোটিভেশনাল সেশনে তিনি রোগীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা হলেও যথাযথ চিকিৎসা, দৃঢ় মনোবল এবং পরিবারের সহযোগিতার মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব। তিনি রোগীদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদকমুক্ত জীবন শুধু একজন ব্যক্তির নয়, তার পরিবার ও সমাজের জন্যও কল্যাণকর।
সমাজের মূলধারায় ফিরে এসে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি রোগীদের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর আন্তরিক বক্তব্যে উপস্থিত রোগীরা উৎসাহিত হন এবং নতুনভাবে জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণও রোগীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁরা মাদকমুক্ত জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য রোগীদের উদ্বুদ্ধ করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃএকীভূত করার লক্ষ্যে এ ধরনের সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।