রিকশা চালিয়ে নিজের লেখাপড়াসহ সংসার চালাচ্ছেন কলেজ ছাত্রদল নেতা মাহমুদুর
সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান মো. মাহমুদুর রহমান। তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর পাশাপাশি পরিবারেরও জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। খেলাপড়ার পাশাপাশি নিষ্ঠার সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্রদলের দলীয় কার্যক্রমও। তার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবার তিনি বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও কৃতিত্বের সাথে অংশ গ্রহণ করেছেন। ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের স্বরসতীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহমুদুর রহমান। তিনি বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। পারিবারিক আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। জানা গেছে, মাহমুদুর রহমানের বাবা একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। ঝালমুড়ি বিক্রি করেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। সীমিত আয়ে বড় পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন মাহমুদুর। প্রতিদিন ধর্মপাশা থেকে মোহনগঞ্জে গিয়ে রিকশা চালিয়ে যে আয় করেন, তা দিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়েরও একটি অংশ জোগান দেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মাহমুদুর রহমানের মতো সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষা সহায়তা, বৃত্তি কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন তাদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন হবে, অন্যদিকে সমাজও পাবে দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ। মাহমুদুর রহমানের এই সংগ্রামী জীবনগাথা প্রমাণ করে-পরিশ্রম, সততা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো প্রতিকূলতাই মানুষকে তার স্বপ্ন থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। তাঁর এই পথচলা সমাজের তরুণদের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে তাঁর এই সংগ্রাম অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। কঠোর পরি্যশ্রমকে তিনি কখনোই ছোট করে দেখেন না বরং সৎ উপার্জনের মাধ্যমেই নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছেন মাহমুদুর রহমান। মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমি সৎভাবে পরিশ্রম করে উপার্জন করার মধ্যে কোনো লজ্জা দেখিনা। পরিবারের দায়িত্ব পালন ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই রিকশা চালাই। যত কষ্টই হোক, আমি লেখাপড়া শেষ করে একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে চাই এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।” ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওবায়দুর মজুমদার বলেন, “মাহমুদুর রহমান আমাদের সংগঠনের একজন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল কর্মী। পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সৎভাবে রিকশা চালিয়ে পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছেন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা তাঁর এই সংগ্রামকে সম্মান করি। এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ করবো মাহমুদুর রহমান কে প্রয়োজনীয় সহায়তার। সহযোগিতা পেলে সে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করে সমাজ ও দেশের জন্য আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।” সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া বলেন, “মাহমুদুর রহমানের জীবন সংগ্রাম প্রমাণ করে, সৎ পরিশ্রমই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাওয়া উচিত নয়। আমরা আশা করি, স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর মতো একজন জীবন সংগ্রামী তরুণের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন। মাহমুদুরের পাশে দাঁড়ানো মানে একজন মেধাবী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করা।