1. tohidulstar@gmail.com : sobuj ali : sobuj ali
  2. ronju@chapaidarpon.com : Md Ronju : Md Ronju
বৈদ্যুতিক মিটার নিয়ে বিপাকে গ্রাহক- চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির হিড়িক-মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা হাতাচ্ছে চোর চক্র - দৈনিক চাঁপাই দর্পণ
বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৫টি চোরাই বৈদ্যুতিক মিটারসহ গ্রেপ্তার-এক জাটকা রক্ষা ও অভয়াশ্রম বাস্তবায়নে পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষেধ বিপিএম পদক পেলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপি ছাইদুল হাসান-পিপিএম এস.আই আসগর আইজিপি ব্যাজ পেলেন ৪৮৮ পুলিশ সদস্য তিন দফা দাবিতে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট বিপিএম পদক পেলেন জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার- মোহাম্মদ নূরে আলম নাচোলে ডিএনসির অভিযানে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার এক নাচোলে ডিএনসির অভিযানে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার এক নাটোরে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে স্বামী

বৈদ্যুতিক মিটার নিয়ে বিপাকে গ্রাহক- চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির হিড়িক-মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা হাতাচ্ছে চোর চক্র

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২৫৯ বার পঠিত

বৈদ্যুতিক মিটার নিয়ে বিপাকে গ্রাহক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির হিড়িক-মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা হাতাচ্ছে চোর চক্র

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। এনিয়ে বৈদ্যুতিক মিটার নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা। মিটার চুরির পর চিরকুটে লিখে রাখা মোবাইল নম্বর (মোবাইল ব্যাংকিং নগদ) দিয়ে টাকা হাতাচ্ছে চোর চক্র। চোর চক্রের নগদ এ টাকা পাঠালেই মিলছে মিটারের খোঁজ। কোন রকম দ্বিধা ছাড়ায় মিটার গ্রাহকের সাথে কথা বলে নগদ এর মাধ্যমে টাকা নিচ্ছেন মিটার চোর চক্র। এঘটনায় সদর মডেল থানায় একাধিক অভিযোগ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এঘটনার কোন সুরাহা হয়নি। ধরাও পড়েনি চোর চক্রের কোন সদস্য বা হোতা। এভাবে বৈদ্যুতিক মিটার হারিয়ে যাওয়ায় এবং টাকা দিয়ে মিটার নেয়া এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে খরচ দিয়ে মিটার লাগানোসহ বিভিন্ন হয়রানীতে ক্ষুদ্ধ ও হতাশাগ্রস্থ ভূক্তভোগীরা। জেলায় বৈদ্যুতিক মিটার চোর চক্রের হোতাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে জরুরীভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকদের।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন থেকেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের মিটার চুরি হয়েছে। বর্তমানেও মহারাজপুর সাব জোনাল অফিসের আওতাধিন বেশ কয়েকটি স্থানে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনার শিকার হয়েছে সদর উপজেলা মহারাজপুর ইউনিয়নের মেলার মোড় পার্শ্ববর্তী ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’। গত ২৭ জানুয়ারী/২৪ রাত ১০টা থেকে ২৮ জানুয়ারী/২৪ রাত ৪টার মধ্যে কোন এক সময় ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ (কোল্ড স্টোর) এর মিটার পল্লী বিদ্যুৎ এর পোল থেকে চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। যার মিটার নম্বর-২২৪৪৭২২৭, বিল নম্বর-১০৪৬০৩-২৩০৭-৬৯৬৯৭, হিসাব নম্বর-১০৪৬০৩১৬০৩৯৬০। চোরেরা মিটার চুরি করে চলে যাওয়ার সময় একটি চিরকুটে ০১৮২৯-৯৫৯৭৬৬ নম্বর লিখে রেখে যায় এবং উক্ত নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বলে যায়। পরবর্তীতে চোর চক্রের দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করেন ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ এর প্রতিনিধি ফ্যাক্টরি ইনচার্জ মোঃ তারেক। মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে ওই নম্বরে (মোবাইল ব্যাংকিং নগদ) এ ৫ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য বলে চোর চক্রের হোতা। তবে নাম পরিচয় নিতে নারাজ ওই হোতা। চোর চক্রের ওই হোতার সাথে দেনদরবার করে ২ হাজার টাকা চুক্তি হয়। ওই নম্বরে (মোবাইল ব্যাংকিং নগদ) এ ২ হাজার টাকা পাঠালে মিটার টি ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ (কোল্ড স্টোর) এর পাশে একটি বালু ঢিবির ভেতর পুঁতে রাখা আছে বলে জানায় চোর। সে মোতাবেক সেই বালু ঢিবির ভেতর থেকে ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ (কোল্ড স্টোর) এর মিটার টি পাওয়া যায় এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে মিটার টি পুনরায় সংশ্লিষ্ট স্থানে লাগানো হয়। এঘটনায় গত ২৮ জানুয়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ (কোল্ড স্টোর) কর্তৃপক্ষ। এর আগেও ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ (কোল্ড স্টোর) এর একটি ট্র্যান্সফরমার চুরি করে নিয়ে চোর চক্র। এঘটনায় ও ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ কে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে পুনরায় ট্র্যান্সফরমারটি লাগাতে হয়েছে।
‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ এর প্রতিনিধি ফ্যাক্টরি ইনচার্জ মোঃ তারেক জানান, ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ এর মিটার বিদ্যুৎ এর পোল থেকে চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্র। তিনি বলেন, যেখানে মিটার টি লাগানো আছে, সেখানে সাধারণ চোর উঠে মিটার খুলে নিয়ে যাওয়ার সাহস করবে না। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক মিটার খুলেছে। মিটার যায়গা থেকে ৩৩ হাজার ভোল্ট এর তারের দূরত্ব খুব বেশি নয়, যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারপরও চোর চক্র মিটার চুরি করে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায় করছে এবং গ্রাহকদের হয়রানী করছে। তিনি আরও বলেন, আগে জয়পুরহাট, নওগাঁ, পোরশাসহ বিভিন্ন জেলায় বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকদের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার কথা শুনেছি। এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেও এরকম ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের মিটার চুরি হচ্ছে, গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ও মানষিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের হয়রানী থেকে বাঁচাতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, মিটার চুরি হওয়ার পর প্রকাশ্যে এভাবে টাকা নিচ্ছে চোর চক্র, অভিযোগ দেয়াও কয়েকদিন হয়ে যাচ্ছে, তারপরও কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না। বিষয়টি কেমন রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
এব্যাপারে ‘চাঁপাই এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা ব্যবসায়ীরা একটু নিশ্চিন্তে প্রতিষ্ঠান চালাতে চাই। এভাবে মিটার বা ট্র্যান্সফরমার চুরি করে যদি অত্যাচার চালানো হয়, তাহলে তো আমাদের ব্যবসা নিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পড়ছি। এসব চোররা আবার মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা নিচ্ছে বাধ্য করছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ছাড়াও অন্যান্য গ্রহাকদের মিটারও যেন চুরি না হয়, সেটারও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই এই চোর চক্রকে খুজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।
এছাড়াও একই দিনে মহারাজপুর সাব জোনাল অফিসের আওতাধিন সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের ঝিল্লিপাড়া মোঃ আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ তহরুল ইসলামে হিসাব নম্বর-১৫০-৩৯৯০, একই এলাকার হাজি ইসলাম উদ্দিন এর ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম এর হিসাব নম্বর-১৬০/৬৩১০ এবং সরকার মোড়ের চুনাখালি গ্রামের মোঃ মোজাফফর হোসেনের ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলামের হিসাব নম্বর-১৫০/৪১০০, এসব মিটার চুরি হয় এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে আবারও মিটার লাগাতে হয়েছে গ্রাহকদের বলেও জানা গেছে।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিন্টু রহমান জানান, বৈদ্যুতিক মিটার চুরির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে, চোর চক্রের সন্ধানও পাওয়া গেছে। খব কম সময়ের মধ্যেই এই চোর চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। গ্রাহকদের হতাশার বিষয়ে তিনি জানান, হতাশার কিছু নেই, সব কিছু আয়ত্বে আনতে একটু সময় লাগছে মাত্র। চোর চক্রের হোতাসহ সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এব্যাপারে মহারাজপুর সাব জোনাল অফিসের এজিএম মোঃ আমিনুর রসুল বলেন, আমাদের গ্রাহকদের মিটার চুরি হচ্ছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে, বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার। এই চোর চক্র হুমকিও দিচ্ছে, পর্যায়ক্রমে মিটার চুরি এবং জিম্মি করে টাকা আদায় করার বিষয়ে। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কয়েকদিন হয়ে গেলেও চোর চক্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় আমরা হতাশাগ্রস্থ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
Copyright All rights reserved © 2024 Chapaidarpon.com
Theme Customized BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!