গোমস্তাপুরে ‘ফিলিং স্টেশনে’ পুলিশকে মারধরের অভিযোগ-আটক ৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সরকারি গাড়ির জন্য ইঞ্জিন অয়েল নিতে গিয়ে ‘রাইহান ফিলিং স্টেশনে’ এক পুলিশ কনস্টেবল মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার খয়রাবাদ এলাকার ‘রাইহান ফিলিং স্টেশনে’ এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল রাইহান গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেনের ছেলে।
মারধরের শিকার কনস্টেবল শওকত হোসেন নাচোল থানায় কর্মরত। এ ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রহনপুরের মেসার্স রায়হান ফিলিং স্টেশনটির কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই গোমস্তাপুর থানা ও রহনপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যের গায়ে হাত তোলার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে পেট্রোল পাম্পে সহঃ ম্যানেজার ইসমাইল বাবু (৪৬), হাসিব (২৪) ও রাকিবুল (৩০) নামে ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অপ্রীতিকর এ ঘটনার পর থেকে জননিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে রায়হান ফিলিং স্টেশনটির তেল সরবরাহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, শওকত নির্ধারিত স্লিপ দিয়ে পাম্পে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় রাইহান তাকে চলে যেতে বলেন। পরিচয় দেওয়ার পরও রাইহান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড় মারেন এবং পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। আহত কনস্টেবলকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গোমস্তাপুর থানার ওসি মো. নূরে আলম জানান, ঘটনার পর রাইহান পালিয়ে গেলেও রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ওই পাম্পের তিন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাইহানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
এদিকে, রাইহানের ভাই আব্দুল গণি হামিদ চৌধুরী জানান, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার পর থেকে আব্দুল্লাহ আল রাইহান ও তার বাবা আশরাফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম ও নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কর্মচারীর ওপর কর্তব্য পালনকালে হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।