শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৭

নৌবাহীনির অফিসারের মর্মান্তিক মৃত্যু নাগরপুরে শোকের ছায়া

বিশেষ প্রতিনিধি ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০৬:০১ অপরাহ্ন সারাদেশ
বিশেষ প্রতিনিধি ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০৬:০১ অপরাহ্ন
নৌবাহীনির অফিসারের মর্মান্তিক মৃত্যু নাগরপুরে শোকের ছায়া

নৌবাহিনীর মাস্টার চিফ পেটি অফিসার কামরুজ্জামানের মর্মান্তিক মৃত্যু, হয়েছে। অবসরের ছয় মাস আগেই ঝরে গেল তার প্রাণ। নিহত কামরুজ্জামান টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের মোল্লা পাচুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মিয়ার বড় ছেলে। জানা যায় কাপ্তাই (রাঙামাটি), ২ আগস্ট: দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাপ্তাই লেকে বোট দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাস্টার চিফ (সিডি) কামরুজ্জামানের (৫৪) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে কাপ্তাই লেকে একটি নিয়ন্ত্রণহীন বোট থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। পরদিন শনিবার (১ আগস্ট) সকালে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। প্রায় ৩৪ বছর ধরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং আর মাত্র ছয় মাস পর অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।

৩১ জুলাই দুপুর প্রায় ১টার দিকে কাপ্তাই লেকে দায়িত্বপালন বা প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি সিঙ্গেল স্ক্রু বোটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বোটটি বাম দিকে ঘোরানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল পোর্টে লক হয়ে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই স্থানে দ্রুত ঘুরতে থাকে। বোট পরিচালনাকারী লিডিং সিডি পানিতে লাফ দিয়ে তীরে উঠে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বোটের জ্বালানি শেষ হলে সেটি থেমে যাবে এবং তখন উদ্ধার করা হবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কামরুজ্জামান কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে তিনি একাই ঘূর্ণায়মান বোটে ওঠার চেষ্টা করলে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বোটের জ্বালানি শেষ হলে সেটি থেমে যাবে এবং তখন উদ্ধার করা হবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কামরুজ্জামান কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে তিনি একাই ঘূর্ণায়মান বোটে ওঠার চেষ্টা করলে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে পড়ে তিনি কিছু সময় বোটের পাশ ধরে থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্রুত ঘুরতে থাকা বোটের কারণে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি বোটের নিচে তলিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, বোটের প্রোপেলার বা রাডারের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।পরবর্তীতে বোটের জ্বালানি শেষ হলে সেটি থেমে যায় এবং নিরাপদে তীরে আনা হয়। তবে তখনও কামরুজ্জামানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সারা রাত অনুসন্ধানের পর শনিবার সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ডুবুরি দল কাপ্তাই লেক থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ নৌবাহিনী হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। কামরুজ্জামানের মৃত্যুর খবরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন, প্রতিবেশী ও সহকর্মীরা জানান, তিনি দায়িত্বশীল, সাহসী ও নিষ্ঠাবান একজন নৌসেনা ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তিনি সবার আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন ।তান সবার আস্থা ও শ্রদ্ধা অভান করেছিলেন। এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে নৌযানের নিরাপত্তা, যান্ত্রিক ত্রুটি মোকাবিলা এবং উদ্ধার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।