বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৭
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেউ বিতর্কিত করবেন না

বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১৬ অপরাহ্ন জাতীয়
বিশেষ প্রতিনিধি ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১৬ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

রংপুরের পাগলাপীরে এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান, সব ধর্মের মানুষের দেশ। তাই সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুরে দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার পথে পাগলাপীর এলাকায় এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালে যেভাবে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেভাবেই আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চাই।” তিনি বলেন, “আজ থেকে আমরা অঙ্গীকার করি, এই দেশ আমাদের সবার, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবার। আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।” তারেক রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সরকার কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করেছে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে সরকার। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চান-সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করুক। এর আগে ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর একটি বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে রংপুরে যান তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ সড়কের দুই পাশে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়িবহর থেকে তাঁদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দুই স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা বাংলাদেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। একইভাবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে সংসদ গঠিত হয়েছে এবং জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের সেখানে পাঠিয়েছেন। কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন মত ও পেশার মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও যেন সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন, সে পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন,


বর্তমান সরকার শুধু যারা ভোট দিয়েছেন তাদের জন্য নয়, যারা ভোট দেননি তাদের জন্যও কাজ করতে চায়। দেশের সব অঞ্চলে অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল সমভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অতীতের রাজনৈতিক চর্চায় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ পরিবর্তনের জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং বিএনপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি পূজারি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাসে করে দুপুর ১২টার দিকে মন্দিরে পৌছান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম রংপুর সফর। রংপুরের কর্মসূচি শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং পূজারি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।