শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৭

গোমস্তাপুরে ব্যস্ত সময় পার করছে লেপ-তোষকের কারিগররা

WP Import ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০৫:৪২ অপরাহ্ন গোমস্তাপুর
WP Import ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০৫:৪২ অপরাহ্ন
গোমস্তাপুরে ব্যস্ত সময় পার করছে লেপ-তোষকের কারিগররা
গোমস্তাপুরে ব্যস্ত সময় পার করছে লেপ-তোষকের কারিগররা

গোমস্তাপুরে ব্যস্ত সময় পার করছে লেপ-তোষকের কারিগররা

শীতের কুয়াশা নামতে না নামতেই ব্যস্ততা বেড়ে গেছে গোমস্তাপুর ও পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার লেপ-তোষক কারিগরদের। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এখন গরম কাপড়ের পাশাপাশি ঘরের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে ঝুঁকছেন নতুন লেপ-তোষকের দিকে। ফলে বছরের এই সময়টায় যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই পেশাটি।
ভোর থেকে গভীর রাত-থেমে নেই কারিগরদের হাত। কেউ তুলা ঝাড়ছেন, কেউ সেলাই মেশিন চালাচ্ছেন, কেউবা রঙিন কাপড়ে ফুটিয়ে তুলছেন নান্দনিক নকশা। ছোট ছোট দোকান আর খোলা আঙিনায় বসেই চলছে লেপ তৈরির কর্মযজ্ঞ। শীত যত বাড়ছে, ক্রেতার চাপও ততই বাড়ছে।
স্থানীয় কারিগর আব্দুল জলিল বলেন, “শীতের এই দুই-তিন মাসই আমাদের বছরের সবচেয়ে ভালো সময়। এক দিনে আগে যেখানে এক-দুটি অর্ডার পেতাম, এখন পাচ্ছি চার-পাঁচটি। রাত জেগেও কাজ করতে হচ্ছে।”

জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে ঘুরলে চোখে পড়ে একই দৃশ্য—তুলার সাদা স্তূপ, রঙিন কাপড় আর সেলাইয়ের টুংটাং শব্দ। অনেক পরিবার এই মৌসুমি আয়ের ওপরই নির্ভরশীল। শীতের সময়টাতে স্বামী-স্ত্রী, এমনকি বড় ছেলেরাও পরিবারের কাজে হাত লাগান।
ক্রেতারাও সন্তুষ্ট। বাজারে প্রস্তুত কম্বল ও কমফোর্টার থাকলেও গ্রামীণ মানুষের কাছে এখনো লেপের কদর আলাদা। নিজেদের পছন্দ মতো সাইজ, নকশা ও তুলার পরিমাণ ঠিক করে নেওয়া যায় বলেই অনেকেই নতুন লেপ বানাতে আগ্রহী। গোমস্তাপুরের এক গৃহিণী বলেন, “বাজারের কম্বল ঠান্ডা ঠেকাতে পারে না। লেপে আলাদা উষ্ণতা আছে। তাই প্রতি দুই-তিন বছর পরপর নতুন লেপ বানাই।” তবে ব্যস্ততার মাঝেও দুশ্চিন্তার কথা জানালেন কারিগররা। তুলা ও কাপড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ থাকছে না। তবুও শীতের এই মৌসুমটাই তাদের টিকে থাকার ভরসা।
শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল আর কনকনে রাতের মধ্যে লেপ-তোষকের এই কর্মচাঞ্চল্য যেন শুধু উষ্ণতার হাতছানি নয়, বরং গ্রামবাংলার এক হারাতে বসা শিল্পের বেঁচে থাকার লড়াইয়েরই প্রতিচ্ছবি।
শীত আসবে-যাবে, কিন্তু এই কারিগরি হাতে তৈরি উষ্ণতার গল্প চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বেই—এটাই যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক নিবিড় মেলবন্ধন।