শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৭

বাগাতিপাড়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

নাটোর প্রতিনিধি ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৩৬ অপরাহ্ন সারাদেশ
নাটোর প্রতিনিধি ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
বাগাতিপাড়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান-টেকসই উদ্যোগে করি বেগবান’ এই প্রতিপাদ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য গাঁথা হলরুমে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডা. মাহবুবা জান্নাত, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আখতার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, একাডেমিক সুপারভাইজার সালাউদ্দিন ডলার, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নার্সিং সুপারভাইজার হাবিবা খাতুন, নার্সিং ইনচার্জ সুফিয়া খাতুন, ইপিআই ইনচার্জ কবিতা খানম, মিডওয়াইফ আকলিমা খাতুন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ, হেলথ ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা, এমটি (ইপিআই) দানিউল ইসলাম, ইপিক বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। সভায় বক্তারা বলেন, শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করালে নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৩১ শতাংশ কমে এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ালে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি আরও প্রায় ১৩ শতাংশ হ্রাস পায়। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শিশুর প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান মায়ের দুধেই রয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, কৌটা বা প্যাকেটজাত দুধ শিশুর জন্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। এতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণ, অপুষ্টি এবং পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সব স্তরে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ২০১৩ সালের মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য আইন অনুযায়ী কৌটা ও প্যাকেটজাত শিশুখাদ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বিপণন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আইন বাস্তবায়নের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের কাউন্সেলিং, কর্মজীবী মায়েদের মাতৃদুগ্ধ সংরক্ষণ ও খাওয়ানোর পদ্ধতি বিষয়ক আলোচনা, মা ও শিশু পুষ্টিবিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কমিউনিটিভিত্তিক প্রচার, বাজার মনিটরিং এবং মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।