শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৭
তোরা চরিত্রহীন-তোরা কুলাঙ্গার ॥ শিক্ষার্থীদের প্রদর্শক

গোদাগাড়ী সরকারি স্কুল ও কলেজের প্রদর্শক ফায়েক’র বিচারের দাবীতে অভিযোগ

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৫:২৪ অপরাহ্ন সারাদেশ
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৫:২৪ অপরাহ্ন
গোদাগাড়ী সরকারি স্কুল ও কলেজের প্রদর্শক ফায়েক’র বিচারের দাবীতে অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রদর্শক ফায়েক আলীর বিরুদ্ধে আচরণগত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন এবং পর্দা ও হিজাব বিষয়ে কটূক্তি করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া, তিনি শিক্ষার্থীদের ও তাদের অভিভাবকদের চরিত্র নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলেন ও প্রতিবাদ করলে ছাত্রদের দীর্ঘ সময় ধরে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। শিক্ষকের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আঘাত করেছে বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৪ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষরিত অধ্যক্ষ বরাবর অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার ফলে তারা নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফায়েক আলী নেশাগ্রস্থ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানে অবস্থান এবং অস্বাভাবিক আচরন করেন। গিটার (বাদ্যযন্ত্র) নিয়ে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের সামনে প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে ধুমপান করেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহিশালবাড়ী গ্রামের জনৈক ব্যক্তি বলেন, বিগত সরকারের আমলে সরকারি দলের গোদাগাড়ী পৌর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে ২০১৮ সনের জাতীয় নির্বাচনে অস্ত্রের মোহড়া দিয়ে মহিশালবাড়ী কেন্দ্র দখল করতে দেখা যায় ফায়েককে। লিখিত অভিযোগের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এব্যাপারে অধ্যক্ষের নিকট জানতে চাওয়া হলে বিষয়টি শুনেছেন এবং অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান। অভিযোগ সম্পর্কে ফায়েক আলীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষার্থী নওরিন বলেন, খাতায় স্বাক্ষর নিতে গেলে ফায়েক স্যার আমাদেরকে রাগান্বিত হয়ে বলেন, তোরা চরিত্রহীন, তোরা কুলাঙ্গার। এছাড়াও তিনি অশ্লীল ভাষায় গালিও দিয়েছেন, আমাদের হিজাব নিয়ে তিনি বলেন, তোরা স্যারের সামনে কেনো মুখ ঢাকবি। আমি কি ঐটা (অশ্লীল অঙ্গভঙ্গী করে)যে আমার সামনে মুখ ঢাকবি?। এমন একজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষা নিতে আমাদের বিবেকে বাঁধে। কাজেই শিক্ষার্থীদের সাথে অসাদাচরণ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারী শিক্ষকের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।