নিয়ামতপুরে প্রতিবন্ধী ৪ সন্তানকে নিয়ে এক মায়ের জীবন যুদ্ধ
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরে প্রতিবন্ধী ৪ সন্তানকে নিয়ে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এক মা। সংসারের বোঝা না সামলিয়ে ভবঘুরে স্বামী শাহজামাল স্ত্রী-সন্তানদের রেখে চলে যান। কিন্তু গর্ভধারিনী মা ফেলে যেতে পারেন নি ৪ প্রতিবন্ধী সন্তানকে। চালিয়ে যাচ্ছেন জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে সংগ্রাম। বেঁছে থাকার সংগ্রাম, ৪ সন্তানকে লালন-পালন করার সংগ্রাম। স্বামী ছেড়ে চলে গেলেও কোনভাবেই ভেঙ্গে পড়েন নি হতদরিদ্র মা ফেরদৌসী বেগম (৫৫)। ফেরদৌসী বেগম কাজ করেন একটি হোটেলে। সন্তানদের মুখে দু মুটো খাবার জোটাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হোটেলে কাজ করে যা আয় হয় এবং প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়ে কোনভাবে অতি কষ্টে সংসার চালানোর পাশপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াও করাচ্ছেন।
এই অসহায় মায়ের কষ্ট দূর করতে পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ। এমনই একটি পরিবার নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের ৫ সন্তানের মধ্যে ৪ জনই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি ২ ছেলে ও ২ মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় সন্তান ও স্ত্রীকে ছেড়ে চলে যায় ভবঘুরে স্বামী শাহজামাল। হতদরিদ্র মা ফেরদৌসী বেগম (৫৫), প্রতিবন্ধী চার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। সন্তানদের মধ্যে শরিফ উদ্দীন (২৭), শাবনুর খাতুন (২২), শাহিনুর খাতুন (১৫), আরিফ হোসেন (১৩) তারা সবাই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তবে, শাজেনুর খাতুন কথা বলতে পারে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে প্রতিবন্ধী সন্তানের নিয়ে মা ফেরদৌসী বেগম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এক মেয়ে শাজেনুর খাতুন কথা বলতে পারলেও অন্যরা ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। জমিজমা নেই তাদের। একমাত্র উপার্জনক্ষম হতদরিদ্র মা ফেরদৌসী বেগম হোটেলে কাজ করে সংসার চালান। তিন মাস পরপর পাওয়া ৪ ছেলে মেয়ের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকায় অর্ধহারে অনাহারে চলে তাদের দিন। সাজেনুর খাতুন বলেন, আমার দুই ভাই ও দুই বোন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যায়। আমরা অসহায় ও দুঃখী মানুষ। খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এখন অন্যের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, মায়ের কষ্ট সহ্য করতে পারি না। আমাদের মুখে দু’মুটো খাবার জোটাতে মা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হোটেলে কাজ করে। মায়ের এমন কষ্ট দেখে মরে যেতে ইচ্ছা হয়। জীবন যোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম বলেন, গত ১৪ বছর আগে আমার ৪ সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বামী আমাদের ছেড়ে চলে যায়। হোটেলে কাজ করে অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছি।
ছোট ছেলে আরিফ পঞ্চম শ্রেণীতে ও শাহিনুর সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। চার প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় হয়ে গেছি আমি। তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে আমার কষ্ট কিছুটা কমবে। সরকার যে টাকা ভাতা দেয়, এতে ওদের খাবার দাবার হয় না। যতদিন বেঁচে থাকি ততোদিন তাদের দেখাশোনা করে যাবো। কিন্তু আমি মরে গেলে এদের কি হবে?। এমন একটি অসহায় পরিবারের পাশে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা দাঁড়ালে হয়তো কিছুটা কষ্ট-দুঃখ কমবে-৫৫ বছর বয়সী এই জীবন যোদ্ধা মায়ের আর্তনাদ সমাজের বিত্তবানদের মনে একটু জায়গা হোক, এমনটায় আশা ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ও সচেতন মহলের।