চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা ॥ অজ্ঞাত আসামি ২০-২৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ নিয়ে বিচারকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা আদালত চত্বরের ঘটনা এবার গড়িয়েছে মামলা পর্যন্ত। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় হামলা-ভাঙচুর, হট্টগোল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন পিপিএম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আদালত চত্বরে ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। মামলা নং-জি,আর-৬১২/২০২৩(নবাব), সেশান মামলা নং-১১৪/২০২৪ এস.টি.সি। জামিন শুনানি শেষে আসামীগণ এজলাস কক্ষে একটি ছবি তুলতে চাইলে কর্মরত কর্মচারী নিষেধ করেন। এসময় আসামীরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় দেন। আদালত কক্ষে বিদ্যুৎ না থাকায় বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল, এসময় বিচারক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর বিচারকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এজলাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিচারককে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করা এবং আদালত কক্ষে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। পরে একই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আরেক আসামির জামিন আবেদন নিয়ে আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী বিচারকের খাস কামরায় গেলে বিচারক তাকে পরদিন আবেদন করতে বলেন। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা আদালতের এজলাসের জানালা এবং বিচারকের খাস কামরার দরজা-জানালায় ভাঙচুর চালায়। এদিকে, মামলায় ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও এখনো প্রকাশ্যে কারও নাম জানানো হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে-কারা আদালতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে? তারা কি মামলার আসামিপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, নাকি বাইরে থেকে কেউ এসে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আদালত চত্বরের ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দায়ীদের শনাক্ত করা হতে পারে। তদন্তে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আইন সংশ্লিষ্টরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের এ ঘটনায় শুধু ভাঙচুর নয়, আদালতের নিরাপত্তা ও বিচারিক পরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন পিপিএম জানান, গত ৯ আগস্ট বিজ্ঞ আদালতে এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় ভাংচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ১০ আগস্ট রাতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামী সনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।