1. tohidulstar@gmail.com : sobuj ali : sobuj ali
  2. ronju@chapaidarpon.com : Md Ronju : Md Ronju
ফুটবলের গনজাগরণ ঘটাতে চাই-ব্যারিস্টার সুমন - চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ - দৈনিক চাঁপাই দর্পণ
বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ফুটবলের গনজাগরণ ঘটাতে চাই-ব্যারিস্টার সুমন – চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

নিজস্ব ও গোসস্তাপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১১৭ বার পঠিত

ফুটবলের গনজাগরণ ঘটাতে চাই-ব্যারিস্টার সুমন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর আহম্মেদী বেগম (এবি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় মুখোমুখি হয় ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমি ও রহনপুর ফুটবল একাডেমি। খেলার নির্ধারিত সময়ে কোন দলই গোল দিতে না পারাই ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। এই প্রীতি ফুটবল খেলা দেখার জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো দর্শক মাঠে ভিড় করে। খেলা শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই দূর দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ভিড় করেছিল মাঠে। খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক এমপি মুহা. জিয়াউর রহমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমান, গোমস্তাপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আজম, রহনপুর পৌর মেয়র মতিউর রহমান মতি, গোমস্তাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ফারিহা সবনম কেয়াসহ অন্যান্যরা। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, বাংলাদেশে ফুটবলের গনজাগরণ ঘটাতে চাই। সারাদেশে যতগুলো খেলার মাঠ দখলে রয়েছে, তরুনদের খেলার জন্য তা উন্মুক্ত করতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। বেশিদিন বাঁচতে চাই না। আপনাদের দোয়ায় যদি বেঁচে থাকি, কথা দিয়ে যাচ্ছি, শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশকে যারা দূর্নীতি করে নষ্ট করছে, তাদেরকে ছাড়ব না।

 


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা সিলেট থেকে এসেছি। হযরত শাহজালাল (রাঃ) সিলেটের মাটি আকড়ে ধরে থাকার কারনে সেই পবিত্র মাটি নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে যে পরিমাণ মিষ্টি আম হয়, তাতে আপনারা যদি নিজেদের প্রতি বিশ্বাস রাখেন, তাহলে বাংলাদেশের নেতৃত্ব আপনাদের হাতে থাকবে। হবিগঞ্জের একটি ছোট্ট উপজেলা থেকে আমি সুমন আজ ব্যারিস্টার সুমন হয়েছি। দেশ ও জাতির কল্যানে নিজের সর্বোচ্চ দেয়ার চেষ্টা করছি। ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দিয়েছি, একাডেমির জন্য কেনা ৫০ লাখের গাড়ি আমি মারা যাবার পর আমার পরিবার দাবি করতে পারবে না। আমার অবর্তমানেও এটা শুধুমাত্র একাডেমির লোকজনই ব্যবহার করবে। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেকে বিশ্বাস করতে শিখুন। হবিগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা থেকে আমি সুমন, যদি পড়াশোনা করে ব্যারিস্টার সুমন হতে পারি, তাহলে আপনাদের দ্বারা তা আরও সহজ। কারন উত্তরাধিকার সূত্রে এই মাটি আপনাদেরকে গর্বিত করেছে। আমার ঘাম যেই জায়গায় পড়ে, সেখানকার মানুষের সাথে আমার আত্মীয়তা তৈরি হয়। আজকে মাঠে আমার অন্তত এক লিটার ঘাম ঝরেছে। আপনারা মানেন আর নাই মানেন, আমি বিশ্বাস করি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের সাথে আজ থেকে আমার আত্নীয়তা তৈরি হয়ে গেছে।
র‌্যারিস্টার সুমন বলেন, ফেসবুকে সিলেটের অনেকেই আমার এই বক্তব্য শুনবেন। সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে বলবো, চোখ বন্ধ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের সাথে আত্মীয়তা তৈরি করতে পারেন। আপনাদেরকেও সিলেট-হবিগঞ্জে আমন্ত্রণ দিয়ে গেলাম। দুই এলাকার মানুষের মধ্যে আসা-যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠবে। আজকে এসে দেখলাম, উত্তরবঙ্গেই আসল মানুষ বসবাস করেন।
তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কেউ যদি ব্যারিস্টার হতে চান, তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। এইচএসসি পাশ করার পরই নিজে বা পরিবারের যেকেউ যোগাযোগ করতে পারেন। আমার জন্ম হয়তো চাঁপাইনবাবগঞ্জে না, আপনাদের সাথে জন্মস্থানের মিল না থাকলেও একটি জায়গায় মিল রয়েছে। আমরাও অতিথিদের সম্মান করতে জানি। আমি হয়তো আর জীবনেও এখানে আসব কি না জানি না, কিন্তু যে আত্নীয়তার দায়বদ্ধতা নিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে সহযোগিতা করব। পড়াশোনা করতে চাইলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।

এর আগে খেলার শুরুতে ব্যারিস্টার সুমন দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিলেট থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরের পথ পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে খেলতে এসেছি। আপনারা ভাববেন না, আপনাদেরকে হারাতে এসেছি। সারাজীবন আপনারা আমাদেরকে যে পরিমান আম খাইয়েছেন, এটার কৃতজ্ঞতা জানাতেই এখানে খেলতে এসেছি। এখানে আসার আগেই আমার ধারনা ছিল, যেখানকার আম এতো সুমিষ্ট, সেখানকার মানুষ আরও কতো ভালো হবে।
তিনি বলেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে আমাকে বলতেন, তোমাদের ৬ ভাই-বোনকে বিয়ে দিয়ে যেতে হবে, এটা আমার দায়িত্ব। তিনি বলেছিলেন, আমাদের সিলেটবাসীর একটি অভ্যাস সিলেটের মধ্যেই বিয়ে দেয়। তাই সিলেটের মধ্যেই ভালো ছেলেমেয়ে দেখো। আমার বাবা কোনদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসেনি। তবে আপনারা যে আথিতেয়তা দেখিয়েছেন, তাতে আমার বাবা যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসতে পারতেন, আমার বিশ্বাস তিনি একটা ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দিতেন এখানে। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, উপরে আল্লাহ আর নিচে আপনারা ছাড়া এই মাঠে আমাদের কোন সর্মথক নেই। আমরা জানি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনেক ভালো ফুটবলার রয়েছে। তারা আমাদের এলাকায় গিয়ে খেলে আসে। আপনাদের টিমও অনেক শক্তিশালী। তবে আমি জানি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের লোকজন সবসময় অতিথিপরায়ন। তাই আজকে সবাই মিলে আমাদেরকে সর্মথন দিবেন। তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের সামনে একটা মডেল হিসেবে দেখাতে এসেছি। হবিগঞ্জ জেলার একটি ছোট্ট উপজেলা থেকে একাডেমি গঠন করে দেশজুড়ে খেলে বেড়াচ্ছি। বাংলাদেশেও যে যত্ন করলে রত্ন মিলে, তা দেখাতে এসেছি। একটা উপজেলা থেকে গঠন করা দলে ৩ জন ব্রাজিল খেলতে যাচ্ছে। এখানকার ১২ জন ফুটবলার বিভিন্ন ক্লাবে খেলে। দেড় বছর আগেও এরা কোথাও খেলার সুযোগ পায়নি। তাদেরকে যত্ন করে কোথায় নিয়ে এসেছি, তা আপনাদের দেখাবো। যারা বলে বাংলাদেশের মানুষকে দিয়ে কিছু হবে না, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না, তাদেরকে বলবো শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই মাঠেই দেখে যান, মানুষ কি পরিমাণ ভালোবাসে ফুটবলকে।
এই প্রীতি ফুটবল খেলা দেখার জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো দর্শক মাঠে ভিড় করে। তরুণ সমাজের ফুটবল প্রেমীদের মধ্যমণি ব্যারিস্টার সুমনের খেলা দেখার জন্য খেলা শুরুর কয়েক ঘন্টা থেকে অপেক্ষায় থাকে হাজারো দর্শক। খেলা শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই দূর দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ভিড় করেছিল মাঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
Copyright All rights reserved © 2022 Chapaidarpon.com
Theme Customized BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!