আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী হত্যা মামলা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গণহত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া, রাজধানীর কাফরুল থানাধীন ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়জুল ইসলাম রাজনকে (১৮) গুলি করে হত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালত সুত্র জানায়, বুধবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার প্রধান কো-অর্ডিনেটর বরাবর অ্যাডভোকেট গাজী এম এইচ তামিম এই আবেদন দায়ের করেন। সাভারের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো. বুলবুল কবীর এ-সংক্রান্ত বিষয়ে আবেদন করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনকে এই অভিযোগে দায়ী করার আর্জি জানানো হয়েছে। সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নামও আছে এই তালিকায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উপ-পরিচালক আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা অভিযোগটি নথিভুক্ত করেছি এবং এর ফলে মামলার তদন্ত শুরু হলো। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আমরা পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর অফিসে প্রতিবেদন জমা দেব।

এদিকে, রাজধানীর কাফরুল থানাধীন ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়জুল ইসলাম রাজনকে (১৮) গুলি করে হত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মেদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে মামলার আবেদন করেন রাজনের ভাই রাজিব (৩২)। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে কাফরুল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর এটি তার বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলা।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানাকে ছয় মাস তিন দিন গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভিক্টিম নিজেই। বুধবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার সিএমএম আদালতে গুমের শিকার হওয়া আইনজীবী সোহেল রানা মামলা দায়েরের পর শুনানি করলে আদালত তা মঞ্জুর করে উত্তরা পশ্চিম থানাকে এহজাহার হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন। মামলায় ভিক্টিম অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডে হঠাৎ অজ্ঞাতব্যক্তি তার নাম জানতে চেয়ে তার বন্ধুসহ তাকে হায়েচ গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়। গাড়িতে হাতকড়া পরিয়ে ও চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। কোনো একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে তাকে রেখে তাকে ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও শহিদুল হকসহ অজ্ঞাত আরও ২১ জনকে আসামি করা হয়। এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মুদি দোকানদার আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। পরে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী। এস এম আমীর হামজা নামে এক ব্যক্তি আবেদনটি করেন। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপির সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ ও ডিএমপি সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই বিকেলে মোহাম্মদপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। সে সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন মুদি দোকানদার আবু সায়েদ। আবেদনকারী বলেন, শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের নির্দেশেই গুলি করেছে পুলিশ।