শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৭
বাংলাদেশে বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রীর দুটি লক্ষ্য ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না-প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা’-প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৬:১৭ অপরাহ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ
নিজস্ব প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৬:১৭ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রীর দুটি লক্ষ্য ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না-প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা’-প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো, কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।


বুধবার (২৬ আগস্ট) শহরের শহীদ সাটু হলে ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে সাজানো হবে। একটি দক্ষ, জ্ঞাননির্ভর ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে হবে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আবুল আমিন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (আইএমডি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। সভায় বক্তারা বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুশিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলাই প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি, নিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধি, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যক্রম সম্পন্ন এবং ঝরে পড়ার হার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তাদের প্রাণবন্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটি শিশুর মধ্যেই অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। যথাযথ শিক্ষা ও পুষ্টির সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। সভায় জানানো হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় রান্না করা খাবার শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই রান্না করা খাবারের একটি পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের দায়িত্বে রান্না ও সরবরাহের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাব্য মডেলগুলো পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।


মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্প আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,


শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ববি হাজ্জাজ বলেন, কারিকুলাম, শিক্ষক,


মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি:প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সঠিক পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শুধু একটি বিষয়ে পরিবর্তন আনলেই হবে না বরং পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক নিশ্চিত করা, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নত করা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা  হবে। এ পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করাই হবে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।