1. tohidulstar@gmail.com : sobuj ali : sobuj ali
  2. ronju@chapaidarpon.com : Md Ronju : Md Ronju
‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’ লণ্ডভণ্ড উপকূল ॥ প্লাবিত গ্রামের পর গ্রাম ॥ ক্ষতি আমেরও ॥ ঢাকার উপর আঘাত - দৈনিক চাঁপাই দর্পণ
মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’ লণ্ডভণ্ড উপকূল ॥ প্লাবিত গ্রামের পর গ্রাম ॥ ক্ষতি আমেরও ॥ ঢাকার উপর আঘাত

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪
  • ৪০ বার পঠিত

‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’ লণ্ডভণ্ড উপকূল ॥ প্লাবিত গ্রামের পর গ্রাম ॥ ক্ষতি আমেরও ॥ ঢাকার উপর আঘাত

‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’ লণ্ডভণ্ড করেছে উপকূল, ভেঙ্গেছে বাঁধ, প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম, পানিতে ডুবেছে বিভিন্ন ফসল, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গাছপালা, বাড়িঘর, বিভিন্ন স্থাপনার। ঢাকার উপরও আঘাত হেনেছে ‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’। ‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’ এর প্রভাবে বৃষ্টিতে বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এবছর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে এমনিতেই আমের ফলন কম, তার উপর চরম তাপদাহ, এখন ‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’। ‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’ এর প্রভাবে ঝরে পেড়েছে অনেক আম। এমনিতেই আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাব, তারউপর আবার ‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’ অনেক ক্ষতি করলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের। জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমাল প্রবল শক্তি নিয়ে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে। রোববার (২৬ মে) দিবারাত পৌনে নয়টার দিকে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে বাগেরহাটের মোংলার কাছ দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়া উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র আঘাত হানতে শুরু করে। এ সময় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়টি। সঙ্গে উঁচু জলোচ্ছ্বাস হলে প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় সেখানকার বাসিন্দাদের। পানিতে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপসানালয়, মাছের ঘের ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার আগেই কলাপাড়ায় জোয়ারের পানিতে ডুবে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সাতক্ষীরায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি কতটা তাণ্ডব চালিয়েছে রাতে তেমনটা বোঝা না গেলেও সকাল হওয়ার পর আস্তে আস্তে ঝড়টির তাণ্ডবলীলা স্পষ্ট হচ্ছে। উপকূলের বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব খবর আসছে তাতে উপকূলজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডবই চালিয়েছে রেমাল। বাগেরহাটে গ্রামের পর গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানিতে ডুবেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। আগাম প্রস্তুতির কারণে প্রাণহানি কম হলেও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে গবাদি পশু, মাছের ঘের ও ফসলি ক্ষেত। বাড়িঘর ও জনপদ ভাসছে নোনাপানিতে। ঝড়ে উপড়ে গেছে গাছপালা। বিচ্ছিন্ন হয়েছে লাখো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ। বিঘ্নিত হয়েছে মোবাইল ফোন-ইন্টারনেট সেবা। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পটুয়াখালীতে একজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। রিমালের প্রভাবে বরগুনার প্রধান তিনটি নদী বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বর নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উচ্চ জোয়ারের চাপে বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ১০টি গ্রাম। এছাড়া জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে বরগুনার নিম্নাঞ্চল। বরগুনার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২০ হাজারের বেশি মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী, ডালভাঙা ও নলী এলাকা, নলটোনা ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া, নলটোনা, সোনাতল ও কুমিড়মারা, বুড়িরচর ইউনিয়নের গুলবুনিয়া, বাঁশবুনিয়া, চালিতাতলী, আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন, বদরখালী ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি, কুমড়াখালী ও গুলিশাখালী এলাকা, পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা, জীনতলা, টেংরা, কালমেঘা, কাকচিড়া, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া, ছোটবগী, নিদ্রার চর, তেঁতুলবাড়িয়া, খোট্টার চর, সোনাকাটা, নিউপাড়া, আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন, গুলিশাখালী, বামনা উপজেলার রামনা, বদনীখালী, বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ি, ঝিলবুনিয়া, ছোট মোকামিয়া এলাকার বাঁধের বাইরের লক্ষাধিক বাড়িঘর অধিক জোয়ারে নিমজ্জিত হয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর নদনদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বাড়ায় কোথাও ভাঙা বাঁধ ভেঙে, কোথাও বাঁধ উপচে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকাগুলোও। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি এলাকার বেড়িবাঁধ। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চিনাবুনিয়া ও গরুভাঙা গ্রাম প্লাবিত হয়। অন্যদিকে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামেও অনেক আগ থেকেই ভেঙে থাকা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে লোকালয়। পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট পানি বাড়লে বরগুনার আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী ও পশুর বুনিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায় বলে জানিয়েছেন আরপাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা। তিনি বলেন, পায়রা নদীতে পানি বৃদ্ধির বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট ভেঙে গেছে। এর ফলে বালিয়াতলী ও পশুরবুনিয়া গ্রাম ২-৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে বোরো ধানের ক্ষেত।

রেমালের জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে গোটা সুন্দরবন। রোববার দুপুর থেকে বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের স্থলভাগ চার থেকে সাত ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। সুন্দরবনের সবচেয়ে উঁচু এলাকা বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রও চার ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। এদিকে, ঢাকা অতিক্রম শুরু করে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কেন্দ্রভাগ। এরপ্রভাবে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২৭ মে) সকালে সংবাদ সম্মেলনে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, উপকূলে ঝড়, বৃষ্টি, জোয়ার আর জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কেন্দ্রভাগ দুপুরের পর ঢাকায় ঢুকবে। রেমালের কেন্দ্রভাগ বিকেলে ঢাকার দিকে এসে অতিক্রম শুরু করে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার, বৃষ্টি আরও বাড়বে। তিনি জানান, ঢাকার ওপর দিয়ে এটা পর্যায়ক্রমে সিলেট দিয়ে বাংলাদেশের বাইরে যাবে। ঝড়ের কারণে রাজধানীর শহীদ মিনার এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। এদিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে দমকা হাওয়াসহ ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে দেশের উপকূল অঞ্চলে। এর প্রভাবে পাঁচ জেলায় ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। রোববার (২৬ মে) থেকে সোমবার (২৭ মে) দুপুর ১২টা পর্যন্ত বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রামে ওই ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে রেমালের প্রভাবে রোববার (২৬ মে) রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে ঢাকায়। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কখনও মুষলধারে কখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শক্তি হারিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল স্থল গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়িয়ে তা স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। পাশাপাশি বন্দরগুলোকে মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে স্থানীয় সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়টি রোববার রাত ৮টার দিকে উপকূলে আঘাত করে। এই ঝড়ের প্রভাবে গতকাল থেকে সোমবার পর্যন্ত পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, ভোলা, চট্টগ্রামে মোট ৪ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে, সারদেশে ‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল’ এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
Copyright All rights reserved © 2024 Chapaidarpon.com
Theme Customized BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!