1. tohidulstar@gmail.com : sobuj ali : sobuj ali
  2. ronju@chapaidarpon.com : Md Ronju : Md Ronju
শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী বুধবার - দৈনিক চাঁপাই দর্পণ
রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ ॥ কয়েকজন আটক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন শিক্ষার্থীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায় সরকার ॥ তথ্য প্রতিমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাগলি হলেন মা পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র শনিরআখড়া ঢাবিতে গুলিবিদ্ধ ২ শিক্ষার্থী-আহত মানবকণ্ঠের নয়নসহ ১০ সাংবাদিক রাবির অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার করল র‌্যাব-বিজিবি-পুলিশ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা’, হল থেকে অস্ত্র উদ্ধার চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা আ’লীগের প্রস্তুতি সভা

শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী বুধবার

রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪
  • ৪৮ বার পঠিত

শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী বুধবার

জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান (১৯২৩-১৯৭৫) একজন স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও একান্ত আস্থাভাজন। বুধবার (২৬ জুন) জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী।
এই মহান ব্যক্তিত্ব ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ২৬ জুন বৃহত্তর রাজশাহী জেলার নাটোর মহকুমার বাগাতিপাড়া থানার মালঞ্চী রেলস্টেশন সংলগ্ন নূরপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস রাজশাহী শহরের কাদিরগঞ্জ মহল্লায়। তাঁর দাদা গুলাই এর জমিদার হাজী লাল মোহাম্মদ সরদার (১৮৪৮-১৯৩৬) ব্রিটিশ আমলে একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। হাজী লাল মোহাম্মদ সরদার দু’বার অবিভক্ত বাংলার লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য (এম.এল.সি) নির্বাচিত হয়েছিলেন। কামারুজ্জামানের পিতা আবদুল হামিদ মিয়া (১৮৮৭-১৯৭৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজসেবক। তিনি ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলা ও পরে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য (এম.এল.এ) ছিলেন।
এই পিতার গর্বিত ও বিশ্বনন্দিত সন্তান এএইচএম কামারুজ্জামানও দাদা এবং পিতার আদর্শকে সামনে রেখে শৈশবেই সেই অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। পিতা আবদুল হামিদ মিয়া ও মাতা জেবুন নেসার ১২জন ছেলেমেয়ের মধ্যে কামারুজ্জামান ছিলেন প্রথম সন্তান। তাঁর জন্মের সময়ে দাদা হাজী লাল মোহাম্মদ সরদার ছিলেন কলকাতায়। তিনি রাজশাহী এসে পৌত্রের নামকরণ করেন আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। ডাক নাম দিলেন দাদি ‘হেনা’। হাসনা-হেনা ফুলের গন্ধ ও সৌরভে বংশের সুনাম বৃদ্ধি করবে এই হেনা আদরের পৌত্র। দাদির সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। যে বংশে শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার মতো বিশ্বনন্দিত মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন সেই বংশের মর্যাদা ও সুনাম অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।
কামারুজ্জামান হেনার বাল্যশিক্ষা শুরু হয় বাড়িতেই পিতৃব্য বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সমাজসেবক কবি মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ সাহেবের কাছে। তারপর তিনি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন তাঁর এক ফুফা। হঠাৎ করেই তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে বদলি হয়ে যান। ফলে কামারুজ্জামান হেনাকেও তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যান। কামারুজ্জামান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিক পাসের পর অবিভক্ত বাংলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে অর্থনীতিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ল’ পাশ করেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের রাজশাহী জেলা শাখার সম্পাদক এবং ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানার চামরুল গ্রামের জোতদার আশরাফ উদ্দীন তালুকদারের কন্যা জাহানারা বেগমকে বিবাহ করেন। ১৯৫৬ সালে কামারুজ্জামান আওয়ামীলীগে যোগ দেন। ১৯৫৭ সালে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে তিনি দুবার মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় জাতীয় পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করলে সেই দফাসমূহ জনসাধারণের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচারে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন তিনি।
১৯৬৭ তিনি সালে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচিত হন। আইয়ুব খান সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবির সমর্থনে ১৯৬৯ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পুনরায় তিনি রাজশাহী থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে সারা দেশে অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে। এমন সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫জন সদস্য বিশিষ্ট দলীয় হাই কমান্ড গঠন করেন। এই হাই কমান্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন কামারুজ্জামান।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সরকার নিরীহ-নীরস্ত্র বাঙালি নিধনের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেয়, যা ইতিহাসে অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত। এই কুখ্যাত গণহত্যার সময় পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এর পূর্বেই তার দলের নেতা কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছিলেন। তাই তিনি শেখ ফজলুল হক মনি, তোফায়েল আহমেদ ও আরও কয়েকজন নেতাকে নিয়ে বগুড়া হয়ে কলকাতা চলে যান। সেখানে তার সাথে তাজউদ্দিন আহমদ সহ অন্যান্য নেতাকর্মীর দেখা হয়। সেখানে তাঁরা সরকার গঠনের পরিকল্পনা করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ এর ১০ এপ্রিল গঠিত হয় প্রথম অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার এবং ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা বৈদ্যনাথ তলায় (পরবর্তীতে মুজিবনগর) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে।
নবগঠিত মুজিবনগর সরকারে কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। কামারুজ্জামান ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে তিনি মুক্তাঞ্চল, শরণার্থী শিবির ও সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করতেন। যুদ্ধ শেষ হবার পর ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীবর্গসহ স্বাধীন দেশে ফেরত আসেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ফিরে এলে সরকার পুনর্গঠিত হয়। সেই পুনর্গঠিত সরকারে তিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কামারুজ্জামান। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি রাজশাহীর দু’টি সদর গোদাগাড়ি ও তানোর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সিদ্ধান্তে ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করলে তিনি বাকশালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে ঘাতকরা। ঐ সময় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে গ্রেফতার ও কারাবন্দী করা হয়। ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে এএইচএম কামারুজ্জামান সহ আরো জাতীয় তিন নেতাকে হত্যা করা হয়। ব্যক্তি জীবনে শহীদ কামারুজ্জামান ছয় সন্তানের জনক। তাঁর সন্তানগণ হলেন, ফেরদৌস মমতাজ পলি, দিলারা জুম্মা রিয়া, রওশন আক্তার রুমি, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, এএইচএম এহসানুজ্জামান স্বপন ও কবিতা সুলতানা চুমকি। তাঁর বড় পুত্র অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনও পিতার মতই রাজনীতিতে জড়িত রয়েছেন। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। চারপুরুষ রাজনীতিতে এমন পরিবার বাংলাদেশে খুব কমই লক্ষ্য করা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
Copyright All rights reserved © 2024 Chapaidarpon.com
Theme Customized BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!